রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ নারী দলের ঐতিহাসিক জয়
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে অভিষেক করেছে, এবং সেই ঐতিহাসিক দিনটি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল একটি চমৎকার জয়ে রাঙিয়ে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কা নারী দলকে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৩ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। এই জয়টি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটি রাজশাহীর মাটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের স্মরণীয় সাফল্য হিসেবে ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকবে।
কঠিন পথে অর্জিত বিজয়
ম্যাচটি শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশ দল ২০৬ রানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যাট করতে নেমে প্রাথমিকভাবে ধাক্কা খায়, মাত্র ৩৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তবে, এই সংকটময় মুহূর্তে শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি দলের পক্ষে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেন। তারা মিলে গড়ে তোলেন ৭৮ রানের মূল্যবান জুটি, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। সোবহানা মোস্তারি ৪১ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে, শারমিন আক্তারের সঙ্গে নতুন করে জুটি গড়েন স্বর্ণা আক্তার। এই জুটিতেও তারা যোগ করেন আরও ৭৮ রান, দলকে বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
শারমিন আক্তার ৮৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ১২৭ বল মোকাবেলা করে ১৩টি চার মারেন। তার এই ইনিংসটি বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি তৈরি করে। তবে, ম্যাচের শেষদিকে নাটকীয়তা দেখা দেয় যখন বাংলাদেশ ১৯৯ রান থেকে মাত্র ১ রান যোগ করতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে, শ্রীলঙ্কা আবারও ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। ২০০ রানে সপ্তম উইকেট পড়লেও, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল আর কোনো বিপদ হতে দেয়নি। সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার ৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ও বাংলাদেশের বোলিং
শ্রীলঙ্কা দল প্রথমে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ৯ উইকেটে ২০৫ রান সংগ্রহ করে। তাদের ইনিংসে হানসিমা করুনারত্নে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন, আর ইমেশা দুলানি করেন ৫২ রান। এছাড়া, কাভিশা দিলহারি ৩০ রান এবং হাসিনি পেরেরা ২৭ রান করে দলের স্কোর বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে রিতু মনি ৩৬ রানে ৩টি উইকেট নিয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। নাহিদা আক্তার ৩৮ রানে ২টি উইকেট নেন, এবং মারুফা আক্তার, রাবেয়া খাতুন ও সোবহানা মোস্তারি একজন করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়টি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক, বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের মতো নতুন ভেন্যুতে সাফল্য অর্জন করে। দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, বিশেষ করে শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারির ব্যাটিং পারফরম্যান্স, এবং বোলারদের কার্যকরী ভূমিকা এই বিজয়কে সম্ভব করেছে। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে গণ্য হবে, এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।



