বিশ্বকাপের তারকা ভিনিসিয়ুস: সমালোচনা পেরিয়ে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন পূরণের আশা
বিশ্বকাপের তারকা ভিনিসিয়ুস: ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন পূরণের আশা

বিশ্বকাপের তারকা, তারকার বিশ্বকাপ: সমালোচনা পেরিয়ে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন পূরণ করাতে পারবেন ভিনিসিয়ুস?

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে প্রতিভাবান উইঙ্গারের অভাব কখনোই ছিল না। পেলে থেকে রোনালদিনিও, নেইমার থেকে বর্তমান প্রজন্মের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র—প্রতিটি যুগেই ব্রাজিল পেয়েছে এমন কিছু তারকা, যারা নিজেদের নৈপুণ্যে মুগ্ধ করেছেন বিশ্বকে। বর্তমানে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার অসাধারণ ক্ষমতায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে।

শৈশব থেকে বিশ্বমঞ্চে

২০০০ সালের ১২ জুলাই ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর সাও গনসালো এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন ভিনি। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন ফ্ল্যামেঙ্গোর যুব একাডেমিতে। সেখানে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দ্রুত নজর কাড়েন কোচ ও স্কাউটদের। ২০১৭ সালে ফ্ল্যামেঙ্গোর মূল দলে অভিষেকের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরে চলে আসেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ তাকে দলে ভেড়ায়। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে শুরু হয় তার ইউরোপ অধ্যায়।

সংগ্রাম থেকে তারকাখ্যাতি

রিয়াল মাদ্রিদে প্রথম কয়েকটি মৌসুম সহজ ছিল না ভিনিসিয়ুসের জন্য। ড্রিবলিং ও গতির প্রশংসা পেলেও গোল মিস এবং ফিনিশিং দক্ষতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে তিনি থেমে যাননি। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেকে বদলে ফেলেন। বিশেষ করে ২০২১-২২ মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। সেই মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে একমাত্র গোলটি করে রিয়াল মাদ্রিদকে শিরোপা জেতান তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্লাব ক্যারিয়ারের সাফল্য

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনিসিয়ুস ইতোমধ্যে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে একাধিক লা লিগা শিরোপা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং বিভিন্ন ঘরোয়া কাপ। শুধু শিরোপাই নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। বিশ্বের অন্যতম কার্যকরী উইঙ্গার হিসেবে বর্তমানে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য বড় মাথাব্যথার নাম ভিনিসিয়ুস।

ব্রাজিলের নতুন আক্রমণভাগের নেতা

জাতীয় দলের জার্সিতেও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলে অভিষেকের পর থেকেই তিনি আক্রমণভাগে নিয়মিত মুখ। নেইমারের পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও অনেকটাই এসে পড়েছে তার কাঁধে। তার গতি, এক বনাম এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার দক্ষতা এবং সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা ব্রাজিলকে বাড়তি শক্তি জোগায়। বর্তমান ব্রাজিল দলে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই বিবেচনা করা হয় তাকে।

বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস

বিশ্বকাপ মঞ্চে ভিনিসিয়ুসের পথচলা শুরু হয় ২০২২ সালে কাতারে। গত বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। গ্রুপ পর্বে এবং নকআউট রাউন্ডে তার গতিময় ফুটবল ও আক্রমণাত্মক উপস্থিতি দলকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করার পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। যদিও সেই আসরে ব্রাজিল শিরোপা জিততে পারেনি, তবু ভিনিসিয়ুস দেখিয়ে দেন যে বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর মানসিকতা তার রয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশা

আসন্ন বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকে থাকবে বিশেষ নজর। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে তাকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজাবে দল। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে এবার তিনি নামছেন আরও পরিণত, আরও অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড় হিসেবে। ব্রাজিল দীর্ঘদিন ধরে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায়। সেই স্বপ্ন পূরণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভূমিকা হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার গতি, সৃজনশীলতা এবং গোল করার সামর্থ্য ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বসেরার মঞ্চে তুলে দিতে পারে—এমন বিশ্বাসই করছেন কোটি কোটি সাম্বা সমর্থক।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্রতিভাবান এক কিশোর থেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য—বিশ্বকাপ জিতে নিজের নামকে ব্রাজিলের কিংবদন্তিদের কাতারে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।