মালেতে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রণক্ষেত্র, লাল কার্ড ও হাতাহাতি
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ম্যাচ শেষে রণক্ষেত্র, লাল কার্ড ও হাতাহাতি

মালেতে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ ম্যাচ শেষ দিকে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার তখন আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি। কিন্তু মাঠের ফুটবল ততক্ষণে রূপ নিয়েছে যেন রণক্ষেত্রে। রেফারির একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় উত্তেজনা, যা পরে গড়ায় হাতাহাতি ও মারামারিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে বাংলাদেশের আল-আমিন ও মিরাজুল ইসলাম লাল কার্ড দেখেন। মাঠের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও।

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত যোগ করা সময়ে। বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের হাসান ইনাজ। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন সঙ্গে সঙ্গে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে লাল কার্ড পান ফরোয়ার্ড আল-আমিন। কার্ড দেখার পর নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিনি রেফারিকে ধাক্কাও দেন।

কিছুক্ষণ হট্টগোলের পর খেলা আবার শুরু হলেও মাঠের পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি ও মারামারি। মাঠের এই পরিস্থিতি দেখে গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ম্যাচের বাকি সময় শেষ হলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ম্যাচের পূর্বাভাস

এর আগে মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে উঠতে জিততে হবে সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমেছিলেন মারুফুল হকের শিষ্যরা। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরাই। প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে বাংলাদেশও একটি পেনাল্টির জোরালো দাবি তুলেছিল, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডারের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে দলকে সমতায় ফেরান মিরাজুল। এরপর জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি দল।

ফাইনালের পথ

দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তান ২-০ গোলে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায়। বাংলাদেশ জিতলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে যেতে পারত, কিন্তু ড্র করায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তানই ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়।

টুর্নামেন্টের বাকি তিন দল সিনিয়র জাতীয় দল নিয়ে খেললেও বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় খেলেছে অলিম্পিক দল (অনূর্ধ্ব-২৩) নিয়ে। বাংলাদেশ তিন ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনটিতেই ড্র করেছে।