বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে জার্মানি। এবারের ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা নবম জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপের দলটি। শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে জার্মানির হয়ে গোল করেন কাই হাভার্টজ ও লেরয় সানে। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র গোলটি করেন অ্যান্টোনি রবিনসন।
ম্যাচের বিবরণ
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় জার্মানি। দ্বিতীয় মিনিটে যোশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করে দলকে লিড এনে দেন হাভার্টজ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। কর্নার থেকে জার্মান রক্ষণ বল ক্লিয়ার করলেও তা গিয়ে পড়ে রবিনসনের কাছে। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী কিকে সরাসরি বল জালে জড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। সুন্দর এক আক্রমণ থেকে হাভার্টজ বল বাড়িয়ে দেন সানের কাছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। পরে সমতা ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। জো স্ক্যালির দূরপাল্লার বাঁকানো শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন জার্মান গোলরক্ষক অলিভার বাউমান। ম্যাচের শেষ দিকে ব্রেন্ডেন অ্যারনসনের শক্তিশালী শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জার্মানি।
জার্মানির বর্তমান ফর্ম
সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। তবে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দলটি দারুণ ছন্দে রয়েছে। জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয়টি ম্যাচ জিতেছে জার্মানি। এই জয়ের ধারায় তারা মোট ২৯টি গোল করেছে এবং হজম করেছে মাত্র ৬টি। গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও গোল করা হাভার্টজ আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ই’-তে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের আগে এটি তার জন্য ইতিবাচক বার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি পর্বে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। শেষ ১০টি প্রীতি ম্যাচে তারা জিতেছে পাঁচটিতে, হেরেছে চারটিতে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে। ম্যাচে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দখলে ছিল ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ সময় বল। তবে শেষ পর্যন্ত ফল নিজেদের পক্ষে আনতে ব্যর্থ হয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। আর টানা জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে জার্মানি।



