সাত বছর পর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
সাত বছর পর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। গোয়ায় অনুষ্ঠিত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের বিবরণ

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় ভারত। ৩৫তম মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ভুলে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন ভারতের পিয়ারি। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৫৬তম মিনিটে বক্সের ভেতরে ভারতীয় ফরোয়ার্ডকে ফাউল করেন সুরমা জান্নাত। ফলে পেনাল্টি পায় ভারত। বদলি হিসেবে মাঠে নামা লিন্ডাকম স্পটকিক থেকে সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দুই গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। শেষ দিকে মালাভিকা আরও একটি গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দলের পরিবর্তন ও কৌশল

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নিয়মিত অধিনায়ক আফিদা খন্দকারকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও কোচ পিটার বাটলার শেষ পর্যন্ত মারিয়া মান্দাকে অধিনায়ক করেন। অধিনায়কত্ব হারানোর পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশেও জায়গা হয়নি আফিদার। তার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া সুরমা জান্নাত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে আগের ম্যাচে না খেলা মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা সুস্থ হয়ে একাদশে ফিরলেও শিউলি আজিমকে রাখা হয়নি শুরুর দলে।

মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে আলোচনায় আসা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ভারতের বিপক্ষেও শুরুতে সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রুপ পর্বের অবস্থান

গ্রুপ পর্বে টানা দুই জয় নিয়ে ৬ পয়েন্ট অর্জন করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। অন্যদিকে এই হারের পরও রানার্সআপ হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আগামী ৩ জুন সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেপাল।

বাংলাদেশের বর্তমান ফর্ম

গত দুই আসরের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশের এবারের যাত্রা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারালেও ম্যাচের একপর্যায়ে ২-২ সমতায় ফিরেছিল প্রতিপক্ষ। যে মালদ্বীপ ভারতের বিপক্ষে গোলই করতে পারেনি এবং ১১ গোল হজম করেছিল, সেই দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশকে লড়াই করতে হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও ছিল না ছন্দময় ও পরিকল্পিত ফুটবলের ছাপ। ঋতুপর্ণা চাকমার কয়েকটি দূরপাল্লার প্রচেষ্টা ছাড়া আক্রমণে তেমন কোনো কার্যকর উপস্থিতি দেখাতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।