বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি রাজ্য বিশ্বকাপের টিকেট বিক্রি নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, সমর্থকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং টিকেটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য
নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট বলেছেন, 'বিভ্রান্তি, কৃত্রিম সংকট আর অসম্ভব উঁচু দাম দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট কেনাকে একটা অসম লড়াইয়ে পরিণত করা হয়েছে। ফিফার কার্যক্রম নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
ফাইনালের টিকেট নিয়ে বিতর্ক
১৯ জুলাই নিউজার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনালের টিকেট নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক চলছে। নিউইয়র্কের কাছে নিউজার্সির জায়ান্টস ও জেটস এনএফএল স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ হবে। শুধু টিকেটই নয়, নিউইয়র্ক থেকে সেখানে যেতে গণপরিবহনে খরচ হবে ১০০ ডলারেরও বেশি। আর গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হবে ২২৫ ডলার।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, 'নিউইয়র্কবাসী বছরের পর বছর ধরে বিশ্বকাপের অপেক্ষা করেছেন। তারা সাশ্রয়ী মূল্যে টিকেট পাওয়ার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।' তিনি আরও বলেছেন, 'কাউকে চাপে ফেলে আকাশছোঁয়া দামে আসন বিক্রি করা উচিত নয়। আর সমর্থকরা যে টিকেট কিনবেন, সেটাই যেন তারা পান।'
তদন্তের বিষয়বস্তু
তদন্তে দেখা হবে, সমর্থকদের আসনের অবস্থান নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে কিনা। এছাড়া 'ডিমান্ড-বেসড প্রাইসিং' নিয়েও তদন্ত হবে। এই পদ্ধতিতে বিক্রি বাড়লে দামও বাড়তে থাকে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান
এই মাসের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়াও টিকেট বিক্রিতে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া
ফ্যান সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ এই টিকেটের দামকে 'অত্যধিক' এবং 'বিশাল বিশ্বাসঘাতকতা' বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, এই টুর্নামেন্ট থেকে ফিফার ১৩০০ কোটি ডলার আয় হওয়ার কথা। অথচ চড়া দামের কারণে সাধারণ সমর্থকরা মাঠে যেতেই পারছেন না।



