বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ গত কয়েকদিন ধরে বাড়ি ফিরছেন। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষ ঘরে ফেরার জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করছেন।
ঘাট এলাকায় উপচে পড়া ভিড়
গত দুই-তিনদিন ধরে ঘাট এলাকায় উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে ঘাট এলাকায় তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। দৌলতদিয়া ঘাট বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের জন্য বাড়তি বেশ কয়েকটি কাউন্টার খোলা হয়েছে। প্রতিটি কাউন্টারের সামনে ভাড়ার তালিকা টানানো রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
বৃষ্টিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ
তবে টার্মিনালে পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনির অভাবে মঙ্গলবার দীর্ঘসময় ধরে ভারি বৃষ্টিতে বহু যাত্রী ভিজে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হন। সরেজমিনে মঙ্গলবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে অসংখ্য মানুষের ভিড়। কিছু যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি অধিকাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন।
ঘরমুখো যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীতে বৈরি আবহাওয়া চলছে এবং লঞ্চে পারাপার অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঝুঁকি এড়াতে ফেরিতে পারাপার হওয়াই উত্তম বলে মনে করছেন তারা। ঢাকা থেকে আসা কুষ্টিয়ার মিনারুল ইসলাম ও মাগুরার দেবাশিস বিশ্বাস জানান, তারা বৈরি আবহাওয়ার কারণে লঞ্চে নদী পার না হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ফেরিতে পাটুরিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়েছেন। ফেরি উত্তাল পদ্মা নদী পারাপারে অধিকতর নিরাপদ বলে মনে করেন তারা।
কালবৈশাখী ঝড়ে ফেরি চলাচল বন্ধ
কালবৈশাখী ঝড় ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টার মতো দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এ সময় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কুরবানির পশুবাহী অনেকগুলো ট্রাক ঘাটে আটকা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হয়। পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে অনেক যাত্রী খোলা আকাশের নিচে থেকে ভিজে যান। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর থেকে নদী অববাহিকায় ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। পরে বৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতায় নদী উত্তাল হয়ে পড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহন বোঝাই করে ফেরিগুলো পন্টুনে বেঁধে রাখা হয়। ঘাট এলাকার মহাসড়কে যানবাহনের কিছু সারি সৃষ্টি হয়। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে থাকে। বর্তমানে নৌরুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে বলে তিনি জানান।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দৌলতদিয়া ৭ নং ঘাটে কর্মরত নৌ-পুলিশের এসআই মো. আবুজর গিফারি জানান, ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তায় তারা কাজ করছেন। আজ আবহাওয়া অনেকটা বৈরি হওয়ায় অসংখ্য যাত্রী ফেরিতে নদী পাড় হয়ে আসছেন, যা তাদের অধিকতর নিরাপত্তা দিচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য ফেরিঘাটে অ্যাপ্রোচ সড়কের একপাশ দিয়ে শুধুমাত্র যাত্রীদের চলাচলের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা হচ্ছে। সেখান দিয়ে চলাচল করতে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে যানবাহন উঠানামার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।



