কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মো. আবু বকর সিদ্দিককে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ সোমবার রাতে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় এজাহার করা হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় হাসাদাহ বাজারে ওই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন হাসাদাহ বাজার এলাকার বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন (৪৫) ও তাঁর শ্যালক রিমন হোসেন (৩২) এবং মাশরুল মুহিব (২৫)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামে সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্বশুরবাড়ি। চাচাতো শ্যালক মুশফিকুর রহমানের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে দুটি গাড়িতে করে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার নস্তি গ্রামে যান। বিয়ে শেষে সেনেরহুদা গ্রামে ফিরছিলেন। এ সময় হাসাদাহ বাজারে একটি ইজিবাইককে হর্ন দিয়ে সরানোকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত গাড়ির চালকের সঙ্গে স্থানীয় অটোরিকশাচালকদের কথা–কাটাকাটি হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের এপিএস আবু বকর সিদ্দিককে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ
খবর পেয়ে জীবননগর থানার ওসিসহ একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত মামলা পর্যন্ত গড়ায়।
এজাহারের বক্তব্য
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সংসদ সদস্য আমির হামজার ব্যক্তিগত গাড়িযোগে মহেশপুর থেকে সেনেরহুদা যাওয়ার সময় পথিমধ্যে হাসাদাহ বাজারের মেইন বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কে ওঠার সংযোগস্থলে ইজিবাইক দাঁড়িয়ে থাকতে পাওয়া যায়। বারবার হর্ন দেওয়া সত্ত্বেও ইজিবাইকচালক সরেননি। পরে সংসদ সদস্যের গাড়ির চালক সাদ্দাম হোসেন গাড়ি থেকে নেমে ইজিবাইকচালককে তাঁর ইজিবাইক সরানোর কথা বললে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এপিএস আবু বকর সিদ্দিক গাড়ি থেকে নেমে ইজিবাইকচালককে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পথরোধ করে এবং ধস্তাধস্তি ও কিল-ঘুষি-লাথি মেরে জখম করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গাড়ির ভেতরে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে আসামিরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও খুন–জখমের হুমকি দেন।
আসামিদের দাবি
হাসাদাহ বাজারের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। তবে এজাহারভুক্ত আসামি মোস্তাক হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেছেন, সংসদ সদস্য চালকের আচরণের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এরপরও তিনি নিজে সংসদ সদস্যের কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়েছেন।



