২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হারের পর ভারতীয় দল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এই পরাজয়ের মাত্র একদিন পরেই টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন বিরাট কোহলি। এর আগে তিনি টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাত বছর ধরে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে ৬৮ টেস্টে ৪০ জয় এনে কোহলি ভারতের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কে পরিণত হন।
মানসিক চাপের কথা বললেন কোহলি
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেন, বর্তমান ক্রিকেটে দ্রুত সাফল্য ও অর্থের প্রলোভন অনেক বড়। তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো ফরম্যাটে খেলে দ্রুত প্রচার ও স্বীকৃতি পাওয়া যায় এবং মাত্র ২০ বলে ৪০-৫০ রান করলেই খ্যাতি ও অর্থ আসে, তখন সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
কোহলি আরও বলেন, একজন ক্রিকেটার দুটি পথ বেছে নিতে পারেন: হয় মাঠে নেমে শুধু বল উড়িয়ে দেওয়া এবং চাপ এড়িয়ে চলা, অথবা ১৫-২০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে খেলে সারা ক্রিকেট বিশ্বের স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জন করা। তিনি মনে করেন, শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তা। এই মানসিকতা গড়ে উঠতে সময় লাগে, কারণ এটি একটি আলাদা জগৎ।
অধিনায়কত্বের বোঝা
অধিনায়কত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, তিনি প্রথমে দলের ব্যাটিংয়ের ভরসা ছিলেন, পরে নেতৃত্বের ভার দেওয়া হয় তাকে। তিনি বুঝতে পারেননি যে এই চাপ তার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে। শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থা হয়েছিল যে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় তার ভেতরে কিছুই বাকি ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আপনি রান না পেলেও দল জিতলে প্রশ্ন উঠবে, আবার ভালো খেললেও দল হারলে প্রশ্ন উঠবে। এই দুই বিষয় নিয়ে সব সময় ভাবতে ভাবতে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। কোহলি জানান, তিনি সব সময় মনে করতেন যে তিনি ভালো খেলছেন না। নেট অনুশীলনের সময়ও তার মনে হতো তরুণ খেলোয়াড়রা তাকে দেখছে এবং খারাপ অনুশীলন করলে তারা প্রশ্ন করবে যে এই লোকটি কী করে এত বছর খেলেছে।
কোহলি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, রাহুল দ্রাবিড় এবং বিক্রমের সাহায্যে তিনি আবার ক্রিকেট উপভোগ করতে শুরু করেন। দ্রাবিড়ের নিজেরও একই রকম অভিজ্ঞতা ছিল, তাই তিনি কোহলির অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন।
বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের প্রতি বার্তা
কোহলি মনে করেন, এখনকার ক্রিকেটাররা বড় শট খেলতে পারলেও সব সময় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। কঠিন পিচে এবং ২-৩ উইকেট পড়ে গেলে ১৭৫-১৮০ রান তাড়া করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যদি বাউন্ডারি না মারতে পারেন, তাহলে দৌড়ে রান নিয়ে দলকে জিতিয়ে আনার মানসিকতাও থাকতে হবে।
বিরাট কোহলির এই সাক্ষাৎকারটি ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে অধিনায়কত্বের মানসিক চাপ ও আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতা নিয়ে।



