ম্যারাডোনা ও মেসির মাঝে পড়েছিলেন স্কালোনি
ম্যারাডোনা ও মেসির মাঝে পড়েছিলেন স্কালোনি

ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি—যখন আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন ম্যারাডোনার। অনেকে বলেন, আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাস দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে ডিয়েগো ম্যারাডোনা, অন্য ভাগে লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন ফুটবলকে জানতে শুধু এই দুজনকে জানলেই নাকি হয়! কথাটা যে আবেগ থেকে বলা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। লিওনেল স্কালোনি তা জানেন। আর্জেন্টিনার এই কোচকে কিন্তু একবার দাঁড়াতে হয়েছিল এই দুই ‘ইতিহাস’–এর মাঝে।

বুঝিয়ে বলছি, ম্যারাডোনার জন্ম ১৯৬০ সালে। স্কালোনির ১৯৭৮ সালে, মেসির ১৯৮৭ সালে। অর্থাৎ তিনজনকে তিন প্রজন্মের মানুষ বলাই যায়। একবার হলো কি, একটা প্রীতি ম্যাচে মেসি ও ম্যারাডোনার সঙ্গে একই দলে খেললেন স্কালোনি। তাহলে সেই ম্যাচটি ধরে তো বলাই যায়, আর্জেন্টাইন ফুটবলের দুই চিরসবুজ ইতিহাসের মাঝে পড়েছিলেন স্কালোনি। সেটা ২০০৫ সাল। পেপসি আয়োজনে সেই প্রীতি ম্যাচের নাম ছিল ‘লা ফিয়েস্তা দে লা এস্ত্রেলাস’ (পার্টি অব স্টারস)। লা প্লাতা স্টেডিয়ামে (বর্তমানে ডিয়েগো ম্যারাডোনার নামে স্টেডিয়াম) আয়োজিত সেই ম্যাচটি খেলা হয় আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক তারকা ও স্থানীয় তারকাদের মধ্যে দুটি দলে ভাগ হয়ে। ম্যারাডোনা, মেসি, ভেরন, আগুয়েরো, স্কালোনি, রিকেলমেদের নিয়ে গড়া আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক তারকাদের দলটি ৫-৪ গোলে জিতেছিল সেই ম্যাচ।

২১ বছর পর সে ম্যাচের প্রসঙ্গ ফিরে আসার কারণ স্কালোনির একটি সাক্ষাৎকার। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। সেদিন ৪৫ বছর বয়সী ম্যারাডোনা ও ১৮ বছর বয়সী মেসির সঙ্গে খেলার স্মৃতি নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘সেদিন ড্রেসিংরুমে ঢুকে এক কোণে চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুধু দেখেছি। কারণ, সেখানে উপস্থিত সবাই ছিলেন ফুটবল–বিশ্বে একেকজন কিংবদন্তি আর সেরা খেলোয়াড়। সত্যি বলতে, আমন্ত্রিত হয়ে সেখানে গিয়ে আমি বেশ লজ্জাই পেয়েছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেপোর্তিভো লা করুনার হয়ে লা লিগা জেতা স্কালোনি এখন মেসির কোচ। দুজন একসঙ্গে জিতেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ। মেসির সতীর্থ হিসেবেও আর্জেন্টিনা দলের হয়ে ২০০৬ সালে দুটি প্রীতি ম্যাচে খেলেছেন স্কালোনি। ’৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনা তাঁদের দুজনের কাছেই সম্ভবত আর্জেন্টাইন ফুটবলের শেষ কথা। আড্ডাসুলভ এই সাক্ষাৎকারে কথা প্রসঙ্গে স্কালোনির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মেসি ও ম্যারাডোনা—দুজনই তাঁর বর্তমান দলে থাকলে কী হতো? তাঁরা কি একসঙ্গে খেলতে পারতেন? স্কালোনির উত্তর, ‘অবশ্যই পারতেন। ফরমেশন বা কৌশল তো তৈরিই হয় খেলোয়াড়দের ওপর ভিত্তি করে। আর তাঁরা বিশ্বের সেরা, একসঙ্গে খেলতে না পারার প্রশ্নই আসে না। তাঁরা মাঠে একে অপরের চমৎকার পরিপূরক হতে পারতেন। আর সমস্যাটা আমাদের নয়; বরং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদেরই হতো।’

২০২৬ বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দরজায়। ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। ৩৮ বছর বয়সী মেসির ক্যারিয়ারে এটাই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু স্কালোনি এসব নিয়ে ভাবছেন না কিংবা আবেগে ভেসে যাচ্ছেন না। আপাতত মেসির বর্তমান সময়টা উপভোগ করাই স্কালোনির লক্ষ্য। ম্যারাডোনার উদাহরণ টেনে স্কালোনি বলেছেন, ‘আমি ভাবতে ভালোবাসি যে মেসি খেলা চালিয়ে যাবেন। অন্য কিছু ভাবলে কেবল কষ্টই বাড়ে, যেমনটা ডিয়েগোর ক্ষেত্রে হয়েছিল। তাঁরা ইতিহাস বদলে দেওয়া ফুটবলার। একটা সময় তাঁরা আর মাঠে নামবেন না—এমন ভাবনা মনে এলেই একধরনের অশান্তি কাজ করে। তাই আমি বর্তমানে থাকতেই পছন্দ করি।’

২০২৬ বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে স্কালোনির দল।