মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খালের পানিতে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মমতাজ বেগম (৩০) মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা।
আহত ব্যক্তিরা হলেন মমতাজের স্বামী লিটন সরকার (৪০), ছেলে তোহাদ (১১), মেয়ে ফাতেমা আক্তার (৯), স্বজন ফরিদা বেগম (৪৫), আলেয়া (৫৫), হাসান (২৭), রাজিয়া (৩৫), উষা (১৭), অহনা (১৫) ও ফারজানা (১৭)। তবে সবার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে লিটন ও ফারজানা বাদে বাকি আটজনকে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদা, আলেয়া, হাসান, রাজিয়া ও উষাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ মমতাজের স্বামী লিটনের দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লিটন, মমতাজ, তাঁদের ছেলেমেয়েসহ ১১ জন মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বজ্রযোগিনী এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর বউবাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসটি যাত্রীসহ সড়কের পাশের খালের পানিতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য
সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জামশেদ ফরিদি প্রথম আলোকে বলেন, বেলা পৌনে একটার দিকে নারী, শিশুসহ ৯ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে মমতাজ বেগম মৃত ছিলেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনজনকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটিও পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’



