জাল শেনজেন ভিসায় তিনজনকে ইতালি পাঠানোর চেষ্টার ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অফিসার মো. আখলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে জামালপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণ
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, গত ২৬ মে তিন ব্যক্তি নেপালগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। পরে স্টাফ গেট দিয়ে বের হয়ে একটি গাড়িতে বসে তারা ইতালিগামী বোর্ডিং পাস, টিকিট ও জাল শেনজেন ভিসা সংগ্রহ করেন। এরপর পুনরায় ইমিগ্রেশন এলাকায় ফিরে ওয়াশরুমে পাসপোর্টে জাল ভিসা সংযুক্ত করেন।
গ্রাউন্ড অফিসারের ভূমিকা
তিনি আরও জানান, পরে আইএনএস গেটে দায়িত্বরত গ্রাউন্ড অফিসার আখলাসুর রহমান তাদের ইতালিগামী ফ্লাইটে উঠতে সহায়তা করেন। সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, ইতালির রোম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মোস্তাফিজুর রহমান অনিক ও অক্ষয় চন্দ্র দাস জাল ভিসাসহ ধরা পড়েন এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে তৃতীয় ব্যক্তি ইতালিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, যার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
আর্থিক লেনদেন
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি জানান, ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে একটি চক্রের মাধ্যমে তারা ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং আগাম ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। সিআইডি জানায়, যেহেতু তাদের ইমিগ্রেশন নেপালগামী বোর্ডিং পাসে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই শুধু আইএনএস গেট দিয়েই তাদের বের হওয়ার সুযোগ ছিল। ওই গেটে থাকা গ্রাউন্ড অফিসারের সহায়তায় তারা গেট পার হয়ে ইতালিগামী ফ্লাইটে ওঠেন।
মামলা ও তদন্ত
এ ঘটনায় ৩০ মে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সিআইডি, যাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



