পাহাড়ে শুরু হলো বিজু উৎসব, ফুটবলার মিতুল মারমার অংশগ্রহণে উচ্ছ্বাস
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পাহাড়ি জনপদে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান উৎসব ‘বিজু’। রবিবার ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় নদী ও ছড়ায় ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় তিন দিনব্যাপী এই প্রাণবন্ত আয়োজন। এই উৎসবে অংশ নিয়ে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের গোলকিপার মিতুল মারমা, যিনি নিজের পরিবারের সাথে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে উৎসবে মেতে উঠেছেন।
মিতুল মারমার ফেসবুক পোস্টে উৎসবের ছবি
রবিবার সকালে মিতুল মারমা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উৎসবের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘সাংগ্রাই (বিজু) উৎসবের প্রথম পর্ব।’ শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, মিতুল মারমা, তার স্ত্রী জেসমিন মারমা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পিনন-হাদি’ ও ধুতি পরে নদীর পাড়ে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করছেন। এই দৃশ্য দেখে ভক্তরা কমেন্টবক্সে উচ্ছ্বসিত শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিজু উৎসবের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব
প্রথা অনুযায়ী, বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন পালিত হয় বিজু উৎসব, যা পাহাড়ি সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রথম দিনটি ‘ফুল বিজু’ নামে পরিচিত, যেখানে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজানো হয় এবং নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। এই উৎসব পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা, ঐক্য এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে।
ফুটবলারদের ব্যস্ত সময় ও উৎসবের অংশগ্রহণ
আপাতত জাতীয় ফুটবল দলের কোনও খেলা না থাকায় খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ফুটবল নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এরই ফাঁকে পাহাড়ি উৎসব বিজুতে মেতে উঠেছেন মিতুল মারমাসহ অন্যান্যরা, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। এই অংশগ্রহণ শুধু উৎসবের মাহাত্ম্যই বাড়ায়নি, বরং ক্রীড়া জগতের সাথে পাহাড়ি ঐতিহ্যের একটি সুন্দর সংযোগ স্থাপন করেছে, যা সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।



