ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উদযাপিত হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিজু–সাংগ্রাই–বৈসু–বিষু উৎসব
ঢাকায় বিজু–সাংগ্রাই–বৈসু–বিষু উৎসবের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উদযাপিত হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিজু–সাংগ্রাই–বৈসু–বিষু উৎসব

পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিজু–সাংগ্রাই–বৈসু–বিষু উৎসব উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এটি আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে রমনা পার্কে গিয়ে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রায় পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণ করে নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।

মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

শোভাযাত্রায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও সরকারি সমর্থনকে তুলে ধরে। পরে রমনা পার্কের লেকে পুষ্প ভাসানোর আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোররা অংশ নেন। এই আয়োজন সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং পার্বত্য সংস্কৃতির ঐক্যকে প্রতিফলিত করে।

বিস্তৃত অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়

অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ছাড়াও ঢাকার সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এই অংশগ্রহণ উৎসবের জনপ্রিয়তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। দীপেন দেওয়ান অনুষ্ঠানে বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়িদের সংস্কৃতি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উৎসবটি সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা গেলে আরও বৃহৎ পরিসরে উদযাপন সম্ভব হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকায় বসবাসরত পাহাড়িদের জন্য গুরুত্ব

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় বসবাসরত অনেক পাহাড়ি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নানা কারণে নিজ এলাকায় গিয়ে উৎসবে অংশ নিতে পারেন না। তাই ঢাকায় এই আয়োজন তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা তাদের সংস্কৃতির সাথে সংযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই শোভাযাত্রা ও পুষ্প ভাসানোর অনুষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।