বান্দরবানে সাংগ্রাইং উৎসব নিয়ে বিরোধের সমাধান, দুটি স্থানে পৃথক আয়োজন
বান্দরবানে সাংগ্রাইং উৎসব বিরোধ সমাধান, দুটি স্থানে আয়োজন

বান্দরবানে সাংগ্রাইং উৎসব নিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান

বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং উৎসব আয়োজন নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষ পৃথক স্থানে উৎসব উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সমাধান প্রক্রিয়ায় জেলার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দুটি কমিটির মধ্যে বিরোধের পটভূমি

বান্দরবান জেলা শহরে সাংগ্রাইং উৎসবের কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটির মাধ্যমে প্রতিবছর আয়োজন করা হয়। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সাধারণত এই কমিটিরও পরিবর্তন হয়ে থাকে। তবে এবার বিএনপির দুটি ভিন্ন পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দুটি পৃথক উদযাপন কমিটি গঠিত হয়। উভয় কমিটিই একই স্থানে উৎসব আয়োজনের দাবি জানালে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।

সমঝোতা বৈঠক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মানবাধিকারকর্মী অং চ মং মারমার নেতৃত্বে মারমা জনগোষ্ঠীর কয়েকজন গণমান্য ব্যক্তি মধ্যস্থতা করেন। তাঁরা পুরোনো উদযাপন কমিটির নেতাদের কাছে দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন: প্রথমত, পুরোনো কমিটি এবারের উৎসব আয়োজন থেকে বিরত থাকবে, অথবা দ্বিতীয়ত, তারা আলাদা স্থানে উৎসবের আয়োজন করবে। পুরোনো কমিটি দ্বিতীয় প্রস্তাবটি গ্রহণ করে, ফলে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উৎসব আয়োজনের নতুন পরিকল্পনা

সমঝোতা অনুযায়ী, নতুন গঠিত উদযাপন কমিটি শহরের রাজারমাঠে সাংগ্রাইং উৎসবের আয়োজন করবে। অন্যদিকে, পুরোনো কমিটি উজানীপাড়ার সাঙ্গুনদের পাড়ে পৃথকভাবে উৎসব উদযাপন করবে। উভয় কমিটি পরস্পরকে উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি উৎসবের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, চ নু মং মারমার নেতৃত্বাধীন পুরোনো কমিটির পৃথক স্থানে উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্তের ফলে সকলের অস্বস্তি দূর হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি নিয়ে বোমাং চিফের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। এখন সবার পারস্পরিক সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় উৎসব অনুষ্ঠিত হবে, যা স্থানীয় মারমা সম্প্রদায়ের কামনা। এই সমাধান প্রক্রিয়া সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।