পহেলা বৈশাখে ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ডিএমপির কঠোর নির্দেশনা
পহেলা বৈশাখে ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ডিএমপির নির্দেশ

পহেলা বৈশাখে ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ডিএমপির কঠোর নির্দেশনা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ডিএমপি সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের সভাপতিত্বে পুলিশ বাহিনীকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত

এ বছর গোয়েন্দা সংস্থাসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নগরবাসীকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ডিএমপি মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ড ব্যাগ, ট্রলি ব্যাগ, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, পটকা, ক্ষতিকারক তরল, ব্লেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইট ইত্যাদি বহন থেকে বিরত থাকার জন্য নগরবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের নিয়মাবলি

পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে নববর্ষের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশগ্রহণ করতে পারবে না, তবে হাতে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না, যাতে মুখ ঢেকে থাকে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই যোগ দিতে হবে এবং মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। বিজ্ঞাপনী স্টিকার বহন করে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ না করা, চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্বেচ্ছাসেবক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রোভার স্কাউট সদস্যদের পরামর্শ মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সময়সীমা ও নিষেধাজ্ঞা

সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রবীন্দ্র সরোবর, রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ সব উন্মুক্ত স্থানের অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে হবে। বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নজরদারি ও সহযোগিতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

কোনো কারণে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত সাব-কন্ট্রোলরুম, কেন্দ্রীয় পুলিশ কন্ট্রোলরুম, রমনা, শাহবাগ, ধানমন্ডি, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগরীতে ব্যারিকেড ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।