ভোলার তজুমদ্দিনে অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উৎসবে লাখো ভক্তের সমাগম
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার আড়ালিয়া ও সম্ভুপুর ইউনিয়নে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে প্রভুপাদ শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর (অনিল বাবাজি) ২৭তম তিরোধান উৎসব। দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দুই মন্দির প্রাঙ্গণ এখন লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
উৎসবের বিস্তারিত আয়োজন
বুধবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা হয় বলে আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে। আড়ালিয়া সমাধি মন্দির ও সম্ভুপুর ইউনিয়নের জন্মস্থানে ৪০ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১২টি কীর্তনীয়া দল এ যজ্ঞানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।
সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক দিন-রাত নিরলসভাবে ভক্তদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। মন্দির প্রাঙ্গণসহ পুরো চত্বর ব্যাপক আলোকসজ্জা ও ছয়টি বিশাল গেট নির্মাণের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে।
ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
বিগত বছরের মতো এ বছরও আড়ালিয়া মন্দিরে নান্দনিক 'বৃন্দাবন' নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে সত্য, দাপর, কলি ও ত্রেতা যুগের নিদর্শন হিসেবে শতাধিক বিগ্রহ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মনোমুগ্ধকর কুণ্ডলীও নির্মাণ করা হয়েছে।
পুণ্যার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছে কুঞ্জের হাট হিন্দু যুবসংঘ। সংগঠনটি স্থানীয় ডিশ চ্যানেলে পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করছে।
বাণিজ্যিক ও আবাসিক সুবিধা
মন্দির চত্বরের চারপাশে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে তৈরি পোশাক, ফার্নিচার, কসমেটিকস, নিত্যপণ্য, কুটির শিল্প ও অসংখ্য খাবারের স্টল বসেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্তের আগমন ঘটেছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ সহস্রাধিক ভক্তের আবাসিক ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিন প্রসাদ বিতরণেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কমিটির বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরবিন্দ দে (টিটু) জানান, এটি সারা দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎসব। তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রবেশ সড়ক সংস্কারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
একই সময়ে সম্ভপুর মন্দিরেও অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর ২১তম তিরোধান উৎসব নান্দনিকভাবে সাজিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে।
