ঠাকুরগাঁওয়ে শহীদ দিবসে বর্ণিল আলপনা, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ও তৎসংলগ্ন সড়কে বর্ণিল আলপনা অঙ্কনের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সদস্যরা, যারা দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন।
আলপনা আঁকার সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারী
২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় আলপনা আঁকার কাজ শুরু হয় এবং বিকেলে তা সমাপ্ত হয়। এই কার্যক্রমে অংশ নেন বন্ধু সৈয়দ শিহাব, মাহাফুজা ফারিহা, তন্ময় মোহন্ত, মারুফ হাসান, আল নাফিস চৌধুরী, রেদেলা, সূর্য সিংহ রায়, তামান্না আক্তার প্রমুখ শিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবক। তাঁদের তুলির আঁচড়ে শহীদ মিনার চত্বর রূপ নেয় একটি রঙিন ক্যানভাসে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
প্রতীকী চিত্র ও ভাষাশহীদদের স্মরণ
ভাষাশহীদদের স্মরণে আলপনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলা বর্ণমালা, শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি, এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’সহ নানা প্রতীকী চিত্র। এই শিল্পকর্মগুলো একুশের চেতনা ও বাংলা ভাষার মর্যাদাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বন্ধুসভার ভূমিকা ও ঐতিহ্য
ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শিহাব জানান, ‘আট বছর ধরে এ আলপনা উৎসব হয়ে আসছে। প্রতিবছরই বন্ধুসভার বন্ধুরা এতে অংশগ্রহণ করেন। কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুর আওয়ালের হাত ধরে। এর পর থেকে প্রতিবছরই অমর একুশের চেতনাকে ধারণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ সামনের রাস্তায় আলপনা করে আসছি।’
বন্ধু মাহাফুজা ফারিহা বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ আয়োজন করা হয়েছে। একুশের চেতনা কেবল একটি দিনের নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতীক।’
এই উদ্যোগটি ঠাকুরগাঁওয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভাষা আন্দোলনের মূল্যবোধ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে একতা ও গর্ববোধ জাগিয়ে তুলছে।
