শেরপুরে একুশের প্রথম প্রহরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ব্যতিক্রমী অংশগ্রহণে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা
শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল পাইলট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ব্যতিক্রমধর্মী ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বে ব্যতিক্রমী আয়োজন
অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ সোহাগের নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারীদের কোলে ঘুমন্ত শিশুদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা সব জাতিগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজন সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী বার্তা
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ব্যতিক্রমী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী বার্তাও বহন করে। শেরপুরের এ আয়োজন ভাষা আন্দোলনের সার্বজনীন চেতনাকে আরও প্রসারিত করার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এ ধরনের ব্যাপক অংশগ্রহণ শেরপুরে ভাষা শহীদদের স্মরণের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সংযোজন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি এলাকার সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
