বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বন্ধুসভা এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে, যেখানে মায়েরাই ছিলেন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু। গতকাল রোববার বিকেলে নগরের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন, যার শিরোনাম ছিল—‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক, আমি তোমায় ছাড়ব না মা।’
মায়েদের সম্মানে বিশেষ আয়োজন
অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্চে একে একে ডেকে বসানো হয় মায়েদের। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন তারাই। সন্তানেরা সামনে দাঁড়িয়ে মায়ের হাতে ফুল তুলে দিয়ে উচ্চারণ করেন, ‘মা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এ সময় কারও চোখ ভিজে ওঠে, কেউ সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, কেউবা মৃদু হেসে বলেন, ‘আমিও তোমাকে ভালোবাসি।’
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নানা আয়োজন
বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল গান, কবিতা, স্মৃতিচারণা ও মায়েদের প্রতি ভালোবাসা জানানোর নানা আয়োজন। শুরুতেই বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহানের (নুরী) মায়ের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, কারণ ২ মে তাঁর মা মারা যান।
স্বাগত বক্তব্যে বন্ধুসভার সভাপতি সোহান রেজা বলেন, ‘পৃথিবীর যে প্রান্তেই মা থাকুক, সব মা-ই তো বন্ধু। আমার মা, তোমার মা বলে কথা নেই—মা তো মা-ই। আল্লাহ–তায়ালা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় নিয়ামত হিসেবে আমাদের মা-কে দিয়েছেন। যাঁদের মা এখনো বেঁচে আছেন, তাঁরা যেন তাঁদের যথাযথ সম্মান দিতে পারি।’
আবেগঘন মুহূর্ত
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল মায়েদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো। তাহামিনা আক্তার মাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মা, আমি তোমাকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি।’ আরিফুল ইসলাম ফুল দিয়ে বলেন, ‘মা, আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।’ মহিমা ইসলাম বলেন, ‘মামনি, আমি তোমাকে লবণের মতো ভালোবাসি।’ পলিনা রানী সাহা মায়ের হাতে ফুল তুলে দিয়ে বলেন, ‘মা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’
মায়েদের অনুভূতি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক মা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানদের কাছ থেকে “মা তোমাকে ভালোবাসি” কথাটা শোনা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি চাই, সব সন্তান যেন বাবা-মায়ের প্রতি এমন শ্রদ্ধাশীল থাকে।’ আরেকজন মা বলেন, ‘আমার মেয়ে আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে, আমাকে ফুল দিয়েছে, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি দোয়া করি, পৃথিবীর সব সন্তান যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।’
একজন মা বলেন, ‘আমরা ইয়াং মায়েদের সবাই ভালোবাসি। কিন্তু বৃদ্ধ মাকে অনেক সময় ভালোবাসি না। আমি সব সন্তানকে বলব, বৃদ্ধ মাকে ভালোবাসার জন্য মন তৈরি করো। মা ডাক শোনার যে কী আনন্দ, সেটা মা ছাড়া কেউ বুঝবে না।’
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
মা-কে নিয়ে গান পরিবেশন করেন আনোয়ার হোসেন সজল, মালিহা ফারজানা রিশিতা, ফাহিম ও সোহান রেজা। কবিতা আবৃত্তি করেন মুসলেমা সুলতানা মৌসুমি ও জাহানারা।



