ঈদুল আজহার ছুটিতে চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রে পর্যটকের ঢল
ঈদুল আজহায় চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রে পর্যটকের ঢল

ঈদুল আজহার ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদের পরদিন থেকে এসব কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত পতেঙ্গায় শুক্রবার দিনভর হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। একই অবস্থা দেখা যায় শনিবারও।

পতেঙ্গায় তিন স্তরের নিরাপত্তা

ঈদের দ্বিতীয় দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে বেশি জনসমাগম হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পতেঙ্গা সি-বিচে তথ্য কেন্দ্র ডেস্ক ও মাতৃদুগ্ধ সেন্টার চালু করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, আনোয়ারা পারকি সৈকত, কনকর্ড ফয়'স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড, ডিসি পার্ক, কর্ণফুলী টানেল, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্ক, পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্ক, সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, মহামায়া লেক, খৈয়াছড়া ঝর্ণা ও নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, পতেঙ্গা নেভালসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঈদে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। ঈদের দিন দর্শনার্থী কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন (শুক্রবার) ও তৃতীয় দিন (শনিবার) হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করেছেন। এই সৈকতের পাশেই কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের একমাত্র টানেল দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এসেছেন।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর হাসান ইমাম জানান, পতেঙ্গা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈকত। ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এবারও দর্শনার্থী বরণে তারা প্রস্তুত ছিলেন। প্রথম দিন দর্শনার্থী কম এলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ সদর দফতর থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা এসেছে। তারা সে অনুযায়ী কাজ করছেন। টহল পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ঘিরে একাধিক স্তরে নিরাপত্তা বলয় সাজানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়

চট্টগ্রামে ঈদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শনার্থী হয় চিড়িয়াখানায়। সেখানে পশু-পাখির পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইড রয়েছে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ঈদের দিন দর্শনার্থী কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে ব্যাপক উপস্থিতি শুরু হয়েছে। ঈদের দিন দুই হাজার দর্শনার্থী এলেও দ্বিতীয় দিন শুক্রবার এসেছে ১০ হাজার ৭০০ জন। শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১২ হাজার দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে প্রবেশ করেছে। চিড়িয়াখানায় জনপ্রতি প্রবেশ টিকিট ৭০ টাকা।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ৬৮ প্রজাতির ৫২০টি পশু-পাখি রয়েছে। চিড়িয়াখানা বড় করার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে আরও পশু-পাখি বাড়বে। ইতিমধ্যে মরিচা পড়া পশু-পাখির খাঁচাগুলো ঘষে মেজে নতুন করে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের জন্য পাশের কয়েকটি পাহাড় ঘিরে গড়ে উঠা ওয়াকওয়ে নতুন মাত্রা যোগ করছে। এখানে পশু-পাখি দেখার পাশাপাশি শিশুদের জন্য দোলনাসহ বিভিন্ন রাইড রয়েছে।

ফয়'স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কে নতুন আয়োজন

চিড়িয়াখানার পাশেই নগরীর কনকর্ড ফয়'স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি-ওয়ার্ল্ড সেজেছে নতুন সাজে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সেখানেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ৩৩৬ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত ফয়'স লেক কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা লেক। অ্যামিউজমেন্ট পার্কে সাজানো হয়েছে অনেকগুলো রাইড। এখানেও ঈদের পরদিন থেকে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, কফিকাপ, রেড ড্রাইল্লাইড, ইয়োলো ড্রাই-স্লাইড, বাগ বইন্স ইত্যাদি। খাবার-দাবারের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট, যেখানে দেশি-বিদেশি নানা খাবারের অ্যাডভেঞ্চার পাওয়া যায়।

লেকের দুই পাশে সারি সারি পাহাড় ও হরেক রকম গাছ-গাছালি। পাহাড়গুলোর নামকরণ করা হয়েছে অরুণিমা, জলটুঙ্গি, গোধুলি, অস্তাচল, আকাশমণি, বনশ্রী, হিমঝুরি, আসমানি, গগণদ্বীপ উদয়ন প্রভৃতি নামে। পাহাড়ের ঠিক উপরে ফটো কর্নার, যেখানে দেখা মিলবে নানা ভঙ্গিতে হরেক রকম প্রাণীর ভাস্কর্য। লেকের গা-ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে সামুদ্রিক প্রাণীদের ভাস্কর্য নিয়ে পিকনিক স্পট অ্যাকুয়াটিক জোন।

ফয়'স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ঈদের পরদিন থেকে এখানে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ তৃতীয় দিনে সকাল থেকে আরও বেশি সমাগম হচ্ছে। আগে যে রাইডগুলো নষ্ট ছিল সেগুলোর সংস্কার হয়েছে। সব রাইডের সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। পার্কটাকে আরও আধুনিক করা হয়েছে। লেকে ভ্রমণের জন্য নতুন ইঞ্জিন বোট যুক্ত করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা রিসোর্ট-বাংলো সংস্কার করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, ঈদের সাত দিনের ছুটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় পর্যটক আগমন বেশি হবে। ঈদের ছুটিতে বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিবেচনা করে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় সাজানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া মা-বাবার সঙ্গে আসা বাচ্চা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা রোধে তথ্য কেন্দ্র ডেস্ক ও মাতৃদুগ্ধ সেন্টার চালু করা হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রে ছিনতাই, হয়রানি রোধে ট্যুরিস্ট পুলিশের টিম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তায় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ওয়াচ টাওয়ারও আছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।