ঈদুল আজহায় লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীদের মিলনমেলা
ঈদুল আজহায় লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীদের ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা লালবাগ কেল্লা পরিণত হয়েছে দর্শনার্থীদের মিলনমেলায়। ঈদের দ্বিতীয় দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে কেল্লা প্রাঙ্গণে।

উৎসবমুখর পরিবেশ

শুক্রবার লালবাগ কেল্লা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ খোলা মাঠে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ মুঘল আমলের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে কিছুটা খোলামেলা পরিবেশ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকে।

দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া

দর্শনার্থীদের অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত ছিলেন ছবি তুলতে। রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকে ঈদের ছুটিতে ঢাকায় এসে ঘুরতে এসেছেন লালবাগ কেল্লায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরাত জাহান ছেলে-মেয়ে, ভাই-ভাবি ও তাদের সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাসা এখানেই, তবে সবসময় আসা হয় না। ভাই-ভাবি বেড়াতে এসেছেন, তাই সবাইকে নিয়ে আসলাম। এখানে আসলে ভালোই লাগে।’

দশ বছর বয়সী আদনান আহমেদ মা-বাবা, চাচা-চাচি ও কাজিনদের সঙ্গে এসেছে লালবাগ কেল্লায়। সে জানায়, এর আগেও একবার এসেছে। তার কাছে জায়গাটির খোলামেলা পরিবেশ খুব ভালো লাগে। পাশাপাশি সে জানায়, এটি শায়েস্তা খাঁর আমলের স্থাপনা এবং এখানে তার মেয়ের কবর রয়েছে।

সুজলা ইসলাম তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসে বলেন, ‘বিয়ের আগে একবার এসেছিলাম। এরপর আর আসা হয়নি। এবার প্রথমবার বাচ্চাকে নিয়ে এলাম। সবকিছু মিলিয়ে বেশ ভালো লাগছে।’

সাখাওয়াত হোসেন স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এসেছেন ঈদের ছুটিতে। তিনি বলেন, ‘ইট-পাথরের শহরে আমাদের তেমন বিনোদনের জায়গা নেই। লালবাগ কেল্লার পরিবেশটা সুন্দর। ঈদ ছাড়া ছুটি পাই না, তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এলাম।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ষাটোর্ধ্ব সোবহান মিয়াজি ছেলেকে নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন। গ্রামের বাড়ি থেকে ঈদের ছুটিতে ঢাকায় বেড়াতে এসে তিনি লালবাগ কেল্লা দেখতে আসেন। তিনি বলেন, ‘লালবাগ কেল্লা আমার কাছে ভালো লাগে। তাই ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে এলাম।’

কেল্লার খোলার সময় ও তথ্য

লালবাগ দুর্গ জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান বিলকিস আক্তার জানান, ঈদের সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হয় এবং এই ভিড় আরও কয়েকদিন থাকবে। তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

ঐতিহাসিক পটভূমি

ঐতিহাসিক এই দুর্গটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে শাহজাদা আজম ১৬৭৮ সালে নির্মাণের উদ্যোগ নেন। প্রথমে এর নাম ছিল ‘কেল্লা আওরঙ্গবাদ’। পরে শায়েস্তা খাঁ এর নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

লালবাগ কেল্লার ভেতরে রয়েছে শায়েস্তা খাঁর বাসভবন, যা বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে মুঘল আমলের নানা নিদর্শন, যুদ্ধাস্ত্র, মুদ্রা, পোশাক ও হাতে আঁকা ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া কেল্লার দক্ষিণ-পূর্ব তোরণ, মিনার, গম্বুজ ও বিশেষ দিনে চালু হওয়া ফোয়ারাগুলোও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।