প্রেমের টানে লিঙ্গ পরিবর্তন, প্রেমিকের বিয়েতে ধাক্কা: নৃত্যশিল্পীর অভিযোগ
রাজশাহীর বাঘায় এক নৃত্যশিল্পী দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রেমের টানে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেমিকের বিয়েতে ধাক্কা খেয়েছেন। নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহম্মেদ (৩০) অভিযোগ করেছেন যে, প্রেমিক বিপ্লব হোসেন (৩০) তাকে বিয়ে করার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লিঙ্গ পরিবর্তনে উৎসাহিত করেছেন, কিন্তু পরে অন্য নারীকে বিয়ে করে তার জীবন ধ্বংস করেছেন। এছাড়া প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রেম ও লিঙ্গ পরিবর্তনের গল্প
ফিরোজ আহম্মেদ বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। বিপ্লব হোসেন বাঘা পৌরসভার বানিয়াপাড়া গ্রামের উজ্জল হোসেনের ছেলে এবং বর্তমানে বরিশালে একটি গ্রুপের কয়লা ঘাটে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। স্কুলজীবন থেকে তাদের প্রেম শুরু হয়। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিপ্লবের পারিবারিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তিনি ফিরোজের বাড়িতে থাকতেন এবং তাদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো ছিল, যা উভয় পরিবার ও এলাকাবাসী জানত।
২০১৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর তারা ঢাকায় চলে আসেন, একসঙ্গে থাকা শুরু করেন এবং একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ফিরোজ ২০১৪ সালে একটি নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন এবং নৃত্য শিক্ষকতা করে আয় করা অর্থ বিপ্লবের হাতে তুলে দিতেন। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তারা একসঙ্গে বসবাস করেন, এরপর বিপ্লবের চাকরি যশোরে বদলি হলে সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ চলতে থাকে।
ভারতে লিঙ্গ পরিবর্তন ও প্রতারণার অভিযোগ
ফিরোজের দাবি, বিপ্লব তাদের সম্পর্ককে বৈবাহিক বন্ধনে রূপ দিতে চেয়েছিলেন এবং এজন্য তাকে অস্ত্রোপচার করে নারী হতে পরামর্শ দেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তিনি ভারতে যান এবং অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হন। ভারতে যাওয়ার আগে তারা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ করেন এবং বিপ্লব তাকে বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত এগিয়ে দেন।
২০২৫ সালে এক বছর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ফিরোজ জানতে পারেন, বিপ্লব তার অনুপস্থিতিতে অন্য নারীকে বিয়ে করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিপ্লব তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যা দিয়ে বিপ্লবের পরিবার বাড়ি-গাড়ি করেছে। ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের দালিলিক প্রমাণপত্রও তার কাছে আছে বলে দাবি করেন। এখন টাকা আত্মসাৎ করতে বিপ্লব তাকে প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করছেন এবং সম্প্রতি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।
বিপ্লবের পাল্টা অভিযোগ
বিপ্লব হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার মতে, ফিরোজ তাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন। তবে তিনি ইতোপূর্বে ফিরোজের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল হাসান বাবুল বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহম্মেদ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ফিরোজের পেশাগত জীবন ও সামাজিক কাজ
ফিরোজ আহম্মেদ সাভার শিল্পকলা একাডেমি এবং শিশু একাডেমির নাচের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি ‘নাচের পুতুল একাডেমি’ নামের একটি নৃত্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নাচ শেখানো এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ‘কর্ন’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি এখন বিপ্লবের বিচার দাবি করেছেন এবং মিথ্যা আশ্বাস ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।



