ড. থর্নডাইকের গোয়েন্দাগিরি: ক্যামডেন কিলারকে ধরার অসাধারণ কাহিনি
আমি ডা. অনির্বাণ সান্যাল, মেডিসিনের ডাক্তার, বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে এখন লন্ডনে প্র্যাকটিস করছি। কাজের বাইরে আমার সবচেয়ে আগ্রহ অপরাধ ও অপরাধীদের ব্যাপারে। আমি গোয়েন্দা নই, কিন্তু ড. থর্নডাইকের বন্ধু হিসেবে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে তদন্তে অংশ নিই। ড. থর্নডাইক মেডিসিনের ডাক্তার হলেও গোয়েন্দা হিসেবেও বিখ্যাত, বিজ্ঞান ও মেডিসিনের জ্ঞান দিয়ে অপরাধ সমাধান করেন। আজ বলব কীভাবে তিনি কুখ্যাত ক্যামডেন কিলারকে ধরলেন।
ব্লুমসবারিতে একটি রহস্যময় খুন
একদিন ড. থর্নডাইক ও আমি ব্লুমসবারির রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ একজন ভারতীয়, বৈরামজি, ছুটে এসে বলল তাঁর ভাই মারা যাচ্ছে। আমরা গিয়ে দেখি, লোকটি মেঝেতে শুয়ে, হার্ট অ্যাটাক বলে মনে হলেও ড. থর্নডাইক লক্ষ করলেন মাথায় আঘাতের চিহ্ন। এটি খুন। বৈরামজি জানাল, তাঁর ভাই একটি মূল্যবান রুবি বিক্রির জন্য একজন ক্রেতার সাথে দেখা করতে যাচ্ছিল, কিন্তু রুবিটি এখন নেই। খুনির হ্যাট টেবিলে পড়ে ছিল, যা ভুলবশত খুনি নিয়ে গিয়েছিল।
হ্যাট থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
ড. থর্নডাইক হ্যাটটি পরীক্ষা করে ধুলো, সিসা ও অস্থিভস্ম পেলেন। হ্যাটের ভেতরে কাগজের টুকরো ছিল, যাতে গ্যাস হিটার ও ফার্নেসের দাম, ওজনের তালিকা এবং একটি খামের অংশ দেখা গেল, যার ঠিকানায় 'N' অক্ষর ছিল। তিনি অনুমান করলেন, এটি ক্লিফোর্ডস ইন-এর সাথে সম্পর্কিত, যেখানে ধাতুবিদরা কাজ করে। পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মিলারের কাছ থেকে ক্যামডেন কিলারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পেয়ে তিনি নিশ্চিত হন, খুনি একজন ধাতুবিদ।
ক্লিফোর্ডস ইন-এ অনুসন্ধান
ড. থর্নডাইক ও আমি ক্লিফোর্ডস ইন-এ গেলাম। সেখানে ৫১ নম্বর ঘরে ক্যারিংটন নামে একজন ভাড়াটে ছিল, যে হঠাৎ চলে গেছে। ঘরে সেই হ্যাটটি পাওয়া গেল। দোতলায় বার্ট ও হাইলি নামে ধাতুবিদদের অফিস ছিল, কিন্তু বার্ট চলে গেছেন। ড. থর্নডাইক সন্দেহ করলেন, ক্যারিংটন আসলে খুনি, যে হাইলিকে খুন করে তার জায়গা নিয়েছে। গ্যাস মিটার চেক করে দেখা গেল, সম্প্রতি প্রচুর গ্যাস পোড়ানো হয়েছে, যা একটি দেহ ভস্মীভূত করার জন্য যথেষ্ট।
খুনির গ্রেপ্তার
ড. থর্নডাইক হাইলির অফিসে গিয়ে শেরউড নামের এক লোকের সাথে দেখা করলেন, যে নিজেকে হাইলির সহকারী দাবি করল। কিন্তু ড. থর্নডাইক লক্ষ করলেন, শেরউডের হাতে চর্মরোগের চিহ্ন, যা ক্যামডেন কিলারের ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে মিলে যায়। শেরউড যখন একটি পট ভাঙলে দাঁত বেরিয়ে এল, তখন সে আক্রমণ করল, কিন্তু ড. থর্নডাইক তাকে পরাজিত করে বেঁধে ফেললেন। শেরউডের পকেট থেকে রুবিটি উদ্ধার করা হলো। পুলিশকে ডেকে ক্যামডেন কিলার গ্রেপ্তার করা হয়।
কীভাবে সমাধান হলো রহস্য
ড. থর্নডাইক ব্যাখ্যা করলেন: হ্যাটের খাম থেকে 'N' অক্ষর দেখে তিনি ক্লিফোর্ডস ইন চিহ্নিত করেন। ওজনের তালিকা ও ধাতুবিদের সরঞ্জাম থেকে বুঝতে পারেন, খুনি ধাতুবিদ। হ্যাটের সিসা ও অস্থিভস্ম এ ধারণা নিশ্চিত করে। শেরউড হাইলিকে খুন করে তার ফার্নেসে দেহ পুড়িয়ে দেয়, কিন্তু দাঁত থেকে প্রমাণ মেলে। শেরউডের হাতের চর্মরোগ ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে মিলে যায়, যা তাকে ক্যামডেন কিলার হিসেবে চিহ্নিত করে।
এই তদন্তের পর ক্যামডেন কিলারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ড. থর্নডাইকের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আবারও প্রমাণ করল, অপরাধ সমাধানে বিজ্ঞান কতটা কার্যকরী হতে পারে।



