মিস ইউনিভার্স মিথিলার ঈদের সাজ: গোলাপ ফুলের লেহেঙ্গা থেকে মসলিন শাড়ির প্রাধান্য
মিথিলার ঈদের সাজ: গোলাপ লেহেঙ্গা ও মসলিন শাড়ির গল্প

মিস ইউনিভার্স মিথিলার ঈদের সাজ: গোলাপ ফুলের লেহেঙ্গা থেকে মসলিন শাড়ির প্রাধান্য

গোলাপ ফুলের নকশা করা ডিজিটাল স্ক্রিন প্রিন্টের লেহেঙ্গা, হাত ও গলার গয়না দিয়ে ঈদের সাজ পূর্ণ করতে পারেন তানজিয়া জামান মিথিলা। মডেল হিসেবে উপস্থিত এই বিউটি কুইন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ খেতাবজয়ী। পোশাক সরবরাহ করেছে মিথিলাপোশাক: স্বপ্ন যাত্রা, গয়না এসেছে সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি থেকে, সাজ নিয়েছে অরা বিউটি লাউঞ্জ। ফটোশুটের নির্দেশনা দিয়েছেন বিপাশা রায় এবং ছবি তুলেছেন কবির হোসেন।

মাগুরার ঈদের স্মৃতি ও ঢাকার ব্যস্ততা

মিথিলার ছোটবেলা কেটেছে মাগুরা শহরে। এখন পর্যন্ত সেখানে কাটানো ঈদের দিনগুলোই তাঁর কাছে সবচেয়ে সেরা স্মৃতি। মিথিলা বলেন, ‘তখন ঈদের কেনাকাটা করতে বাবার সঙ্গে খুলনা যেতাম। আবার কখনো ঢাকা থেকে ঈদের কেনাকাটা করে দিতেন চাচারা। যদিও ফ্যাশন কী জিনিস বুঝতাম না, তবে সব সময় নিজেকে পরিপাটি রাখতে ভালো লাগত।’

ঢাকায় এসে কাজ শুরু করার পর থেকে ঈদের আনন্দ ধীরে ধীরে ফিকে হতে শুরু করে। এমনও দিন গেছে যখন ঈদের সময়েও টানা কাজ করতে হয়েছে। তবে অনেক বছর পর এবার ঈদের আমেজ ফিরে এসেছে। এই অভিনেত্রী ও মডেল সেই আনন্দ ভালোভাবেই উপভোগ করছেন। কারণ জানতে চাইলে মিথিলা বলেন, ‘রোজার শুরু থেকে এত পোশাক উপহার পাচ্ছি যে বাসায় ঢুকলেই মনে হচ্ছে ঈদ। প্রায় প্রতিদিনই উপহার আসছে।’

মসলিনের পোশাকে আভিজাত্য ও আরামের প্রাধান্য

যেকোনো বিশেষ দিনে সাধারণত শাড়ি পরতে ভালোবাসেন তানজিয়া মিথিলা। ঈদের দিনও সেটার ব্যতিক্রম হতো না। তিনি মসলিন, শিফন, জর্জেটের শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। তবে এখন প্রিয় পোশাকের চেয়ে আরামকে বেশি গুরুত্ব দেন। ঈদের পোশাকের তালিকায় তাই থাকে মসলিন অথবা সুতির কামিজ।

দেশে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য মিথিলার পছন্দের ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে হুমায়রা খান, মুমু মারিয়া আর হাউস অব আহমেদ। চার–পাঁচ বছর ধরে ঈদের কেনাকাটা এসব দোকান থেকেই সারেন। এসব ব্র্যান্ডের ডিজাইন ও টেইলরিং এত নিখুঁত হয় যে পোশাকগুলো পরলেই নিজেকে দেখে খুব আরাম লাগে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ওশান ব্লু মসলিন লং ড্রেস ও গয়নার পছন্দ

ওশান ব্লু মসলিনের লং ড্রেসটির বুকের কাছে চুমকি ও পুঁতির নকশা অভিজাত ভাব এনেছে। হাতাকাটা এই ড্রেসের সঙ্গে গয়না হিসেবে ইয়ারকাফ ও হাতের চূড় পরানো হয়েছে। ঈদের দিন সন্ধ্যায় এমন সাজে দেখা দিতে পারেন মিথিলা।

পরিবারের সবার জন্য নিজেই ঈদের কেনাকাটা করেন মিথিলা। বিশেষ করে মায়ের জন্য প্রতিবারই একটা স্পেশাল শাড়ি কেনেন। ‘মা আড়ংয়ের মসলিন শাড়ি খুব পছন্দ করেন। ওখান থেকে তাই প্রতিবারই মায়ের জন্য ঈদের শাড়ি কিনি,’ বলছিলেন তানজিয়া।

গয়নার প্রতি দুর্বলতা ও সুন্দর থাকার দর্শন

গয়নার প্রতিও বিশেষ দুর্বলতা আছে মিথিলার। ডায়মন্ড আর গোল্ড পরতে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি অ্যান্টিক আর রুপার গয়নার প্রতিও আছে বিশেষ টান। ‘এককথায়, আই লাভ জুয়েলারি। শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও সাজগোজ করে থাকতে ভালো লাগে। ভালো লাগে নিজেকে সব সময় পরিপাটি দেখতে,’ বলছিলেন এই বিউটি কুইন।

ঘিয়েরঙা সুতির জাম্পস্যুটের ওপর ওভারসাইজ জ্যাকেট সুতার ছোট ছোট নকশা। কানের গয়না হিসেবে ইয়ারকাফ এবার থাকবে চলতি ধারায়।

তবে পরিপাটি থাকতে যে নিজের চেহারা বা চুলের যত্নে অনেক বেশি সময় ব্যয় করেন, তা কিন্তু নয়। বাসায় নিয়মিত ত্বক ও চুল পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন। মাসে একবার পারলারে গিয়ে হারবাল ফেসিয়াল করান। মিথিলা মনে করেন, নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য ভালো খাবার খাওয়াটা জরুরি। এ জন্য সব সময় তেল ছাড়া হেলদি খাবার খেতে ভালোবাসেন। আর এড়িয়ে চলেন বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার।

মিথিলা ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, সুন্দর থাকাটা আসলে ভেতরকার বিষয়। ভেতর থেকে কেউ যদি সুন্দর থাকার চর্চা করেন, বাইরে সেটার প্রভাব পড়বেই। তাই বিশেষ কোনো দিনের জন্য নয়, প্রতিদিনের জন্যই নিজেকে সুন্দর রাখতে ভালোবাসেন তানজিয়া জামান মিথিলা।