শাশুড়ির সঙ্গে অভিমানে ভৈরব নদে ঝাঁপ, ২৪ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ গৃহবধূ সাবিনা
শাশুড়ির অভিমানে নদে ঝাঁপ, নিখোঁজ গৃহবধূ

শাশুড়ির সঙ্গে কলহে ভৈরব নদে ঝাঁপ, ২৪ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ গৃহবধূ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শাশুড়ির সঙ্গে মোবাইল ফোন চুরি নিয়ে কলহের জেরে ভৈরব নদে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন এক গৃহবধূ। নিখোঁজ এই তরুণীর নাম সাবিনা বেগম, বয়স ২৫ বছর। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ভৈরব নদের ভাটপাড়া খেয়াঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

সাবিনা বেগম অভয়নগর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাঁধন বিশ্বাসের স্ত্রী। তার শাশুড়ি রহিমা বেগমের বর্ণনা অনুযায়ী, খুলনা থেকে ফেরার পথে সাবিনা তার মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলেন। পরে বিকালে ভাটপাড়া খেয়াঘাটে নৌকায় ওঠার পর মোবাইল চুরির বিষয় নিয়ে শাশুড়ি-বউমার মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এই কলহের জেরে অভিমান করে সাবিনা নৌকা থেকে মাঝনদীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন।

ঘটনার সময় নৌকার মাঝি দ্রুব দাসসহ ঘাটে কর্মরত কয়েকজন যুবক তৎক্ষণাৎ নদীতে লাফিয়ে পড়ে সাবিনাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে সাবিনার কোনো সন্ধান না পেয়ে নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

উদ্ধার অভিযানের চিত্র

নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে নদীতে তীব্র স্রোত ও ঘন ঘন কার্গো জাহাজ চলাচলের কারণে সন্ধ্যার আগেই উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হন তারা।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগীয় অফিসে ডুবুরি দল পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে। বুধবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। কিন্তু বুধবার বিকাল পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা চেষ্টা করেও গৃহবধূ সাবিনা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

নৌকার মাঝি দ্রুব দাস বলেন, "শাশুড়ির ওপর অভিমান করেই নৌকা থেকে মাঝনদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারিনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভৈরব নদের এই অংশে স্রোত অত্যন্ত তীব্র থাকে। এছাড়া নিয়মিত কার্গো জাহাজ চলাচলের কারণে উদ্ধার কাজে বড় বাধার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এখনো সাফল্য মেলেনি।

পরিবারের অবস্থা

সাবিনা বেগমের স্বামী বাঁধন বিশ্বাস ও শাশুড়ি রহিমা বেগম ঘটনাস্থলেই অপেক্ষা করছেন। তারা উদ্ধারকারীদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন যেন দ্রুত সাবিনাকে খুঁজে বের করা হয়। এলাকাবাসীও এই দুর্ঘটনায় মর্মাহত হয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালানো হচ্ছে। তবে নদীর গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা উদ্ধার কাজকে কঠিন করে তুলেছে।