বিয়ের প্রস্তুতির মাঝে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কনের মায়ের মৃত্যু, সাতক্ষীরায় শোকের ছায়া
বিয়ের প্রস্তুতিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কনের মায়ের মৃত্যু, সাতক্ষীরা

বিয়ের প্রস্তুতির মাঝে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কনের মায়ের মৃত্যু, সাতক্ষীরায় শোকের ছায়া

বাড়িতে চলছিল বিয়ের আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু সেই উৎসবের ঘরে হঠাৎ করেই নেমে এলো গভীর শোকের ছায়া। গোয়ালঘরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন কনের মা দীপিকা সানা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার ঘুঘুমারি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দীপিকা স্থানীয় কৃষক দেবাশীষ সানার স্ত্রী ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের শোক

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে দীপিকা গরুর দুধ দোহাতে গোয়ালঘরে যান। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে থাকা বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো ক্রুটি ছিল। সেটির সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সেখানেই পড়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেখতে পান যে তিনি ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

দীপিকা ও দেবাশীষ দম্পতির তিন সন্তান অভীক, অর্পিতা ও অর্ণব (৯ বছর)। দ্বিতীয় সন্তান অর্পিতার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বাড়িতে চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। গতকাল ছিল গায়েহলুদের অনুষ্ঠান। বুধবার বিয়ের কথা ছিল। এমন সময়ে এই দুর্ঘটনা পুরো পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

স্থানীয় সমাজকর্মী কৃষ্ণ ব্যানার্জী বলেন, "বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। এমন সময়ে এ দুর্ঘটনা পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সবাই গভীর শোকে আচ্ছন্ন।"

খাজরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় লোকজনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "এই দুঃসময়ে আমাদের সবাইকে এক হয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে হবে।"

আশাশুনি থানার ওসি শামীম আহমেদ খান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামগ্রিক প্রভাব ও উপসংহার

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো গ্রাম ও আশেপাশের এলাকাকে শোকগ্রস্ত করেছে। বিয়ের মতো আনন্দের অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়রা পরিবারটির সাথে তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্ত আশা জাগিয়েছে যে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।