পেছনের বেঞ্চের সেই বন্ধুই আজ জীবনসঙ্গী: ৯ বছরের প্রেমের গল্প
সাল ২০০৬, অনার্স প্রথম বর্ষের ক্লাসে জোরেশোরেই চলছে পাঠদান। নতুন ক্যাম্পাস, নতুন শিক্ষক, সঙ্গে কিছু নতুন বন্ধুবান্ধব—কলেজের বাঁধাধরা নিয়ম পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ যেন এক নতুন জীবনের সূচনা! বরাবরের মতোই প্রতি ক্লাসে সামনের দিকে বসতাম, স্কুলজীবন থেকে ধারণা ছিল যে মেধাবী ও মনোযোগী শিক্ষার্থীরা সামনের বেঞ্চে বসে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, যে ছেলেটা আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে বসল, সে সব সময় পেছনের বেঞ্চে অবস্থান নিত।
এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব
পেছনে বসলেও ওর মতো বুদ্ধিদীপ্ত ও মেধাবী মানুষ খুব কম দেখেছি জীবনে। রেজাল্টের দিক থেকে আমাদের মোটামুটি সবার চাইতে ও ভালো করত, যা আমাকে বিস্মিত করতো। সুদর্শন হলেও দূর থেকে দেখলে ওকে বেশ রাগী ও গম্ভীর মনে হতো, প্রথম প্রথম আমি ওকে বেশ ভয়ই পেতাম। যদিও ক্লাসের মধ্যে সুযোগ পেলেই বুদ্ধিদীপ্ত টিপ্পনী কাটত, অনেক সময় নিজের অজান্তেই হো হো করে হেসে ফেলতাম তার মন্তব্যগুলো শুনে।
বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের যাত্রা
লেখাপড়া, ক্যাম্পাসের আড্ডা ও নোট আদান–প্রদানের সুবাদে আমরা সহজেই খুব ভালো বন্ধুতে পরিণত হই। ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে, এবং একপর্যায়ে মনবিনিময়ের মাধ্যমে তা প্রেমে রূপ নেয়। প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনসঙ্গীর মধ্যে একজন বন্ধু খোঁজেন, কিন্তু আমি, আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি—এ এক অনন্য সৌভাগ্য।
৯ বছরের একসঙ্গে চলার পথ
বিয়ের পর প্রায় আট বছর পার করে এখন আমরা নবম বছরে পা দিয়েছি, একসঙ্গে হাজারো স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে। সব মেয়েরাই নিজের স্বামীর মধ্যে ভালো বন্ধু খুঁজে পেতে চান, আর আমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকেই আমার স্বামী হিসেবে পেয়ে গেছি। আজ ৯ বছর ধরে একসঙ্গে চলছি, আরও হাজারো বছর বাঁচতে চাই তোমার সঙ্গে—এই আকাঙ্ক্ষা মনে ধরে রেখেছি।
এই গল্প শুধু একটি প্রেমের কাহিনী নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সোনালি দিনগুলোর স্মৃতি, যেখানে একটি অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব জীবনসঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। পেছনের বেঞ্চের সেই রহস্যময় ছেলেটাই আজ আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, প্রেম ও বন্ধুত্বের মেলবন্ধন যেন অনন্তকালের জন্য বেঁধে রেখেছে আমাদের হৃদয়।
