ঢাকার বায়ুদূষণ: বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানী
ঢাকার বায়ুদূষণ: বিশ্বে দ্বিতীয় দূষিত শহর

ঢাকার বায়ুদূষণ: বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানী

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষ কিংবা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ার ভিজুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান ২৬০ স্কোর পেয়েছে।

বিশ্বের ১২৪ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুসারে, বিশ্বের ১২৪টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। বায়ুর এই মানকে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। বায়ুদূষণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর, যার স্কোর ৪০৪। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২১৫।

তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে ভারতের কলকাতা, ইরাকের বাগদাদ এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শীর্ষে রয়েছে, যার স্কোর মাত্র সাত। এরপরেই রয়েছে ডেনমার্কের কোপেনহাগেন, মালয়েশিয়ার কাচিং, যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড এবং কানাডার ভ্যানকুয়াবা শহর।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মানদণ্ড

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে হলে তা ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে মধ্যম মানের, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সতর্কতামূলক, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ এর বেশি হলে চরম অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর ২৬০ হওয়ায় এটি 'খুব অস্বাস্থ্যকর' পর্যায়ে রয়েছে।

বায়ুদূষণের বৈশ্বিক প্রভাব

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের তথ্য অনুসারে, সারা বিশ্বে প্রতিবছর বায়ুদূষণ সংক্রান্ত সমস্যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। এই পরিসংখ্যান বায়ুদূষণের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে। ঢাকার মতো শহরগুলোতে বায়ুর মানের এই অবনতি নাগরিকদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলা এবং অন্যান্য পরিবেশগত দূষণকারী উপাদান অন্তর্ভুক্ত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।