সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে অবৈধ মাছ শিকারে ২২ জেলে গ্রেপ্তার
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অন্তর্গত মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ২২ জন জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। শনিবার ভোরে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্যে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কর্মকর্তা (এসও) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বনকর্মীরা বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানে জেলেদের দুটি বড় মাছ ধরার ট্রলার, নিষিদ্ধ জাল, সামুদ্রিক শাপলাপাতা মাছসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
আটক জেলেরা হলেন জামাল হাওলাদার, সুমেদ হাওলাদার, কালু হাওলাদার, ফরহাদ, ইয়াছিন খান, দুলাল গাজী, হানিফ হাওলাদার, মো. রাসেল হাওলাদার, শফিকুল খান, রাজিব হাওলাদার, ইসমাইল, ইব্রাহিম হাওলাদার, শরিফ মিয়াসহ মোট ২২ জন। তাঁদের সবার বাড়ি পটুয়াখালীর মহিপুর থানার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত।
বন বিভাগের পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, ‘অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। শনিবার দুপুরের দিকে বন আইনে মামলা দায়ের করে জেলেদের সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা মাছ কেরোসিন ঢেলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে যাতে পরিবেশগত ক্ষতি রোধ করা যায়।’
এই ঘটনাটি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের কঠোর নজরদারির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধ মাছ শিকার একটি নিয়মিত সমস্যা যা বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
