বৃষ্টিতে ভেজার উপকারিতা: মেজাজ ভালো, স্মৃতিশক্তি বাড়ে
বৃষ্টিতে ভেজার উপকারিতা: মেজাজ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে

বৃষ্টিতে ভেজার একাধিক উপকারিতা রয়েছে। স্বতন্ত্র ঘ্রাণ থেকে শুরু করে বৃষ্টির পানি থেকে নির্গত আয়ন আমাদের শরীরের ওপর বেশ কিছু প্রভাব ফেলে থাকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বৃষ্টির সঙ্গে আমাদের মেজাজ বা মুড পরিবর্তনের সংযোগ রয়েছে। বৃষ্টির উপকারিতা কেবল মেজাজ ভালো করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বৃষ্টি বাতাস থেকে ক্ষতিকারক উপাদান সরিয়ে দেয় এবং এর ঘ্রাণ আমাদের স্মৃতিশক্তিকেও প্রখর করতে পারে।

নেগেটিভ আয়নের প্রভাব

বৃষ্টির পানির ফোঁটা যখন একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় বা কোনো তলে আঘাত করে ভেঙে যায়, তখন নেগেটিভ আয়ন তৈরি হয়। এগুলো মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং আলফা ওয়েভ বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের আনন্দিত ও শিথিল বোধ করতে সাহায্য করে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বিজ্ঞানী প্যাম ডাল্টন বলেন, নেগেটিভ আয়ন কীভাবে মেজাজ বা ক্লান্তি পরিবর্তন করে তা নিয়ে এখনো অনেক গবেষণা প্রয়োজন। তবে ১৯৫৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিজনাল এফেক্টিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীরা যখন উচ্চ ভোল্টেজের আয়োনাইজার ব্যবহার করেছেন, তখন তাদের উপসর্গে বড় ধরনের উন্নতি দেখা গেছে।

বায়ু পরিশোধন

বৃষ্টির পানির আয়ন বাতাস থেকে ধূলিকণা, দূষণ এবং অ্যালার্জেন দূর করতে সাহায্য করে, ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। বাতাসের মান ভালো হওয়া মানেই উদ্বেগ কমে আসা। পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যান সিজকো বলেন, বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার সময় তারা বাতাসের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে অনেকটা ঝাড়ু দেওয়ার মতো পরিষ্কার করে ফেলে। বৃষ্টির তীব্রতা যত বেশি হয়, বাতাস তত বেশি পরিষ্কার হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেট্রিকোর ও স্মৃতিশক্তি

বৃষ্টির পর মাটি থেকে যে সোঁদা গন্ধ বের হয়, তাকে বলা হয় পেট্রিকোর। বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাচীনকালে পেট্রিকোর মানেই ছিল সুপেয় পানির প্রাচুর্য, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের নিরাপদ ও শান্ত বোধ করাত। প্যাম ডাল্টন জানান, যেকোনো ঘ্রাণ মস্তিষ্কের অ্যামিগডালাকে সক্রিয় করতে পারে, যা আবেগ এবং স্মৃতির জন্য দায়ী। এ কারণেই বৃষ্টির ঘ্রাণ অনেক সময় পুরোনো কোনো স্মৃতিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয়।

বৃষ্টির শব্দের প্রশান্তি

বৃষ্টির শব্দ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে। ক্লিনিক্যাল অডিওলজিস্ট অ্যামি সারো বলেন, ‘পানির শব্দ আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যা বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সঙ্গে জড়িত। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবেল মাত্রার বৃষ্টির শব্দ মানসিক চাপ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

সূত্র: বিবিসি