বর্ষা মানেই বজ্রপাতের উঁকিঝুঁকি। প্রকৃতির এই প্রাণঘাতী খেলা প্রতি বছর বিশ্বের নানা দেশে শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চল। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরু থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
সম্প্রতি বজ্রপাতে প্রাণহানি
এরই মধ্যে রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। এই ঘটনা সচেতনতার অভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
নিরাপদ থাকার উপায়
বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকতে দ্রুত কোনো পাকা দালান বা ছাউনিযুক্ত স্থানে আশ্রয় নিন। ঘরের ভেতরে থাকলে জানালা-দরজা বন্ধ রাখুন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও পানির কল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। বাইরে থাকলে উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকুন। গাড়ির ভেতরে থাকলে জানালা বন্ধ রেখে অবস্থান করুন।
বর্ষার মৌসুমে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করুন, যাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ঝড়প্রবণ এলাকায় থাকলে আগে থেকেই নিরাপদ আশ্রয় ও যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করে রাখুন।
বজ্রপাতের স্বাস্থ্যঝুঁকি
বজ্রপাত অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে শুধু প্রাণহানিই নয়, বজ্রাঘাতের কারণে পেশিতে তীব্র ব্যথা, হাড়ভাঙা, কানে কম শোনা, খিঁচুনি, শরীর পুড়ে যাওয়া, চোখে ছানি—এমনকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়।
বজ্রঝড়ের সময় করণীয়
বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত শক্ত ও নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিন। সম্পূর্ণ বন্ধ গাড়িও নিরাপদ হতে পারে। খোলা জায়গা, ঝুপড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয় এড়িয়ে চলুন। ঘরের ভেতরে থাকলেও সতর্ক থাকুন। ঝড় চলাকালে জানালা ও দরজা থেকে দূরে থাকুন। বজ্রপাত সরাসরি ভবনে না পড়লেও বৈদ্যুতিক প্রভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বজ্রপাতের সময় সুইমিংপুল, নদী, হ্রদ বা যেকোনো জলাশয় থেকে দূরে থাকুন। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহিত করে, তাই এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঝড়ের সময় বাইরে থাকলে কখনোই গাছের নিচে দাঁড়াবেন না। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু গাছে পড়ে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে প্রবাহিত হয়। এতে কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিও তড়িতাহত হতে পারেন।
বজ্রপাতের সময় খালি পায়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। রাবারের সোলযুক্ত জুতা বা স্যান্ডেল পরলে মাটির মাধ্যমে প্রবাহিত বিদ্যুতের প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। ঝড়ের সময় তারযুক্ত ফোন, কম্পিউটার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। বেড়া, লোহার খুঁটি, ছাতা বা যেকোনো ধাতব বস্তু বিদ্যুৎ পরিবাহিত করতে পারে, তাই এসব থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হওয়া নিরাপদ। কারণ ঝড় কমে গেলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না।
শিশুদের সচেতনতা
বজ্রপাতের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিষয়ে শিশুদের শেখানো জরুরি। অনেক সময় শিশুরা বেশি ভয় পায়। তাই তাদের আগে থেকেই সচেতন করতে হবে, যাতে সংকটের সময় একা থাকলেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
সচেতনতাই বজ্রপাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।



