ঢাকা দক্ষিণ সিটির কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ইজারাদারদের ভূমিকায় ক্ষোভ, জামানত বাজেয়াপ্ত
ঢাকা দক্ষিণ সিটির কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ইজারাদারদের ভূমিকায় ক্ষোভ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে ইজারাদারদের শর্তভঙ্গের কারণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ইজারাদাররা বর্জ্য অপসারণ না করায় ডিএসসিসি তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালোতালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য

রোববার নগর ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম কোরবানির পশুর হাট ও বর্জ্য অপসারণের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইজারাদাররা শর্ত অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ না করায় জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে, যা সামগ্রিক কার্যক্রমকে কিছুটা শ্লথ ও চ্যালেঞ্জিং করেছিল। জনভোগান্তি তৈরিকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বর্জ্য অপসারণের পরিসংখ্যান

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্যের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিএসসিসির হিসাবে, ঈদের প্রথম দিন ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিন ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিন ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তিন দিনে মোট অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬ টন। এই কর্মযজ্ঞে ডিএসসিসির নিজস্ব কর্মী, পিসিএসপিসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে ৩৮২টি বিশেষ যান–যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত তিন দিনে ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয় বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।

নাগরিক সচেতনতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতার বিষয়টিও তুলে ধরেছে ডিএসসিসি। সংস্থাটি জানায়, ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টিভিসি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

ইজারাদারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ

ইজারাদারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিএসসিসি জানায়, শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ইজারাদারদের বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও তাঁরা তা করেননি। ফলে জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশনকে নিজ দায়িত্বে হাটের বর্জ্য সরাতে হয়েছে।

ত্রুটিবিচ্যুতি ও দুঃখ প্রকাশ

প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, টানা তিন দিন কোরবানি, যত্রতত্র চামড়া ফেলে রাখা এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী অংশের তীব্র যানজটের কারণে কিছু সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে। এ জন্য তিনি নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। নাগরিক সেবায় কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য

ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ওই বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়।