শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি এখন নীরব কিন্তু বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণ সহজে বোঝা না গেলেও পরে এটি হৃদস্পন্দন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
পটাশিয়াম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ব্রিটিশ গবেষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশিয়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। এটি স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান, পেশির নড়াচড়া এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। শরীরে পটাশিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।
জন ইয়ং জানান, পটাশিয়ামের ঘাটতি বর্তমানে বেশ সাধারণ সমস্যা এবং এর প্রধান কারণ হলো অনিয়মিত ও ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস।
পটাশিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। প্রাথমিক বা হালকা পর্যায়ে দেখা দিতে পারে:
- পায়ের আঙুলে শক্তভাব বা জড়তা
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- খিটখিটে মেজাজ
- মাথাব্যথা
তবে ঘাটতি গুরুতর হলে আরও জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন:
- মানসিক বিভ্রান্তি
- বিষণ্নতার মতো মানসিক পরিবর্তন
- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
- হজমজনিত সমস্যা
- শ্বাসকষ্ট
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে এসব উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।
প্রতিদিন কত পটাশিয়াম প্রয়োজন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণ করা উচিত। তবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ডায়েট অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভের তথ্য বলছে:
- ১০ শতাংশ পুরুষ পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ করেন না
- ২৪ শতাংশ নারী পটাশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগছেন
- তরুণদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশও প্রয়োজনীয় মাত্রা পূরণ করতে পারছেন না
যেসব খাবারে বেশি পটাশিয়াম
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু কলার ওপর নির্ভর করলে হবে না। দৈনিক চাহিদা পূরণে প্রায় ১০টি মাঝারি আকারের কলা খেতে হতে পারে। পটাশিয়ামের ভালো উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:
- আলু
- পালং শাক
- বিভিন্ন ধরনের শিম ও ডাল
- দই
- ফলের রস
- টুনা মাছ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাবার থেকে সবসময় পর্যাপ্ত পটাশিয়াম পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ মাল্টিভিটামিন গ্রহণ উপকারী হতে পারে।
সতর্কতা
তবে অতিরিক্ত পটাশিয়াম গ্রহণও ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য। কিডনি অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করতে না পারলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই শরীরে পটাশিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরই জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।



