দেশের বাজারে টানা দুই দিন সোনার দাম কমল, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা হ্রাস
দেশে সোনার দাম কমল, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা হ্রাস

দেশের বাজারে টানা দুই দিন সোনার দাম কমল, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা হ্রাস

দেশের বাজারে আজ আবারও সোনার দাম কমেছে, যা টানা দুই দিন ধরে এই হ্রাসের ধারা বজায় রেখেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই কমানোর পর ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। ফলে দুই দিনে সোনার দাম ভরিপ্রতি মোট ৫ হাজার ৪৮১ টাকা কমেছে, যা বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে সোনার বিভিন্ন ক্যারেটের দাম

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে, যা সোনার দাম হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মূলত বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়াই এই পরিবর্তনের পেছনে দায়ী। আজকের দাম কাঠামোতে, ২১ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা; ১৮ ক্যারেট সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা। এ ছাড়া সনাতনী পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে, যা ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

জানুয়ারি মাসে সোনার দামের অস্থিরতা

জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যেখানে কখনও সকালে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আবার রাতে তা কমানো হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়, যা বর্তমান হ্রাসের পেছনে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দামের অবস্থা

সোমবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার পাঁচ হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ৪৮ ডলার বাড়লেও তা এখনো ৫ হাজার ডলারের নিচে রয়ে গেছে। প্রতিবেদন লেখার সময় সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৯৩৭ ডলার, যা গত সপ্তাহের তুলনায় একটি হ্রাস নির্দেশ করে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমেছে, যা বিশ্ববাজারের সামগ্রিক প্রবণতা প্রতিফলিত করছে। এর আগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর বিক্রির চাপ বাড়ায় সোনার দর ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল, সেদিনও সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে গত শনিবার সোনার দাম আবার পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।