ঢাকার পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা: বাইকারদের জীবিকা হুমকির মুখে
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সামদানি ফিলিং স্টেশনে এক অসহনীয় দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মোটরসাইকেল চালক সোহাগ, যিনি রাইড শেয়ার করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তিনি সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত—দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ধরে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। ৩১ বছর বয়সী এই যুবক এখনও তেল সংগ্রহ করতে পারেননি, যা তার দৈনন্দিন আয় ও জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
সোহাগের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা
সোহাগ বলেন, “সারাদিন চলে গেল, একটা ট্রিপও মারতে পারিনি। কোনও ইনকাম হয় নাই। বাসায় বাজার করার কথা ছিল, তাও করতে পারিনি। কখন যে তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবো, আল্লাহ ভাল জানেন।” শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে এই স্টেশনে তার মতো অসংখ্য মানুষ একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে, যা রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাজারো বাইকারের একই পরিণতি
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে হাজার হাজার বাইকার ও গাড়িচালক খেয়ে না খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তির অন্ত নেই, এবং এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। রিয়াসাত নামের ২৬ বছর বয়সী একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “বিকাল ৪টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখন প্রায় সাড়ে ১০টা বাজে। তেল পাবো কি পাবো না, সেই নিশ্চয়তা নেই। এর আগে মালিবাগের এক পেট্রোল পাম্পে ১৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে হেঁটে বাসায় ফিরেছি।”
মাইক্রোবাস চালক সজীবের উদ্বেগ
মাইক্রোবাস চালক সজীবও একই সময়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তেলের জন্য। আগামীকাল তার বসের অফিস আছে, তাই যেকোনো মূল্যে তেল সংগ্রহ করতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “মালিক ব্যাংকের ম্যানেজার। তেল সংগ্রহ করতে না পারলে বকা দিবে। দরকার পড়লে টাকা বাড়িয়ে দিয়ে হলেও তেল নিবো।” এই পরিস্থিতি তার মতো অনেক চালককে আর্থিক ও মানসিক চাপে ফেলছে।
পাম্পে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা
এদিকে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে মারামারি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইন ভঙ্গ করে ভিআইপি পরিচয়ে তেল নিতে এলেই তর্কাতর্কি এমনকি হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। রাজনৈতিক পরিচয় দিলে এই বিড়ম্বনা আরও বেড়ে যায়। উসমান নামের একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ দিয়ে বলেন, “পাম্পগুলোতে সিরিয়াল মানার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী কিছু তরুণ জোরপূর্বক আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে প্রতিনিয়ত মারামারির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে প্রশাসনের তদারকির প্রয়োজন।”
এই জ্বালানি সংকট শুধু ব্যক্তিগত জীবিকা নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে, এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



