নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে তেল সংকট, ট্রলার বন্ধের আশঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ
নারায়ণগঞ্জ খেয়াঘাটে তেল সংকট, ট্রলার বন্ধের আশঙ্কা

নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে তেল সংকট: ট্রলার বন্ধের আশঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত হুমকির মুখে

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌকা ও ট্রলার চলাচল যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করা লক্ষাধিক মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর উপজেলার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী এই গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটটি বর্তমানে একটি জটিল সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

ইজারাদারের বক্তব্য: তেলের উৎস বন্ধ, দৈনিক চাহিদা মেটানো কঠিন

সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের ইজারাদার দিদার খন্দকার জানান, গত এক মাস ধরে জাহাজ থেকে তেল সংগ্রহ বন্ধ থাকায় তারা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন। তিনি বলেন, "কোথাও তেল পাচ্ছি না। গত কয়েক দিন ১২২ থেকে ১৩০ টাকায় ডিজেল কিনেছি; কিন্তু এ মুহূর্তে তেলের খুবই সংকট।" এই ঘাটে সাতটি ট্রলার সকাল ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা যাত্রী পারাপার করে। দৈনিক প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী শুধুমাত্র ট্রলার দিয়েই এই পথ অতিক্রম করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০০ লিটার তেলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যা শুধুমাত্র স্বল্প সময়ের জন্য সহায়ক। প্রতিদিন সাতটি ট্রলার চালাতে ১৩০ থেকে ১৩৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। বর্তমান মজুত শনিবার দুপুর পর্যন্ত ট্রলার চালানোর জন্য যথেষ্ট, কিন্তু এরপর নতুন মজুত না পেলে যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রীদের উদ্বেগ: অর্থনৈতিক চাপ ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যাঘাত

যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট দিয়ে শহর ও বন্দরের যাত্রীরা নিয়মিত পারাপার হন। ট্রলারে জনপ্রতি দুই টাকা এবং নৌকায় জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে তারা এই যাতায়াত সম্পন্ন করেন। বন্দরের সাবদি এলাকার মোহাম্মদ হোসেন, যিনি শহরের নয়ামাটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করেন, বলেন, "প্রতিদিন আসা যাওয়া বাবদ ২ টাকা করে চার টাকা দিয়ে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে পার হতে পারি।"

অন্যদিকে, বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকার দুলাল দাস, যিনি একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন, উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "ট্রলার বন্ধ হয়ে গেলে প্রতিদিন ১০ টাকা করে ২০ টাকা দিয়ে আমাদের পারাপার হতে চাপ পড়ে যাবে।" এই অর্থনৈতিক চাপ অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিক্রিয়া: আপৎকালীন ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের চেষ্টা

বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার জানান, আপৎকালীন হিসেবে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "স্থায়ী সমাধানের জন্য ইজারাদারকে পরামর্শ দিয়েছি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে। এছাড়াও ডিসি স্যারের সভাতেও বিষয়টি উত্থাপন করা হবে, যাতে জনভোগান্তি না হয়।"

নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, "আমাকে অবগত করা হয়নি এখনো। ডিজেলের তো সংকট ওভাবে নেই। তারপরও প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও পাম্পে চিঠি দেব, সুপারিশ করব। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করব।" এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সংকট সমাধানের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

সামগ্রিক প্রভাব: একটি সম্প্রদায়ের যাতায়াত ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিপর্যয়

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে বন্দর উপজেলাকে পৃথক করেছে শীতলক্ষ্যা নদী। জীবিকার তাগিদে এই নদী পার হয়ে প্রতিদিন বন্দর ঘাটসহ বিভিন্ন খেয়াঘাট দিয়ে লক্ষাধিক মানুষকে এপার-ওপার যাতায়াত করতে হয়। সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এই যাতায়াতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। যদি ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শুধুমাত্র নৌকার উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা যাত্রীদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

এই সংকট কেবলমাত্র যাতায়াতের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যারা দৈনিক ভিত্তিতে শহরে কাজ করতে আসেন তাদের জন্য। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।