বিদেশ থেকে ফেরার সময় ব্যাগেজ রুলে শুল্ক-কর দিয়ে আনতে পারেন ১১ ধরনের পণ্য
বিদেশ থেকে ফেরার সময় অনেকেই প্রিয়জনদের জন্য উপহার আনেন, কিন্তু আপনি কি জানেন যে, সরকারের ব্যাগেজ রুল সুবিধার মাধ্যমে বড় গৃহস্থালি পণ্যও আনতে পারেন? শুল্ক-কর পরিশোধ করে এই সুবিধা গ্রহণ করা যায়, যা যাত্রীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ।
ব্যাগেজ রুল কী এবং কীভাবে কাজ করে?
ব্যাগেজ রুলস হলো একটি সরকারি নিয়ম, যা বিদেশ থেকে ফেরার সময় নির্দিষ্ট পণ্য শুল্ক-কর দিয়ে আনার অনুমতি দেয়। এই নিয়ম অনুসারে, ১১ ধরনের পণ্য আনা যায়, এবং এ জন্য কোনো ঋণপত্র বা এলসি খুলতে হয় না। সরকার প্রতি দু-এক বছর পরপর এই রুলে পরিবর্তন আনে, যাতে তা বর্তমান বাজার ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
শুল্ক-কর দিয়ে আনা যাবে এমন পণ্যের তালিকা
নিচে ব্যাগেজ রুলের আওতায় শুল্ক-কর দিয়ে আনা যাবে এমন পণ্যগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
- টেলিভিশন: ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত এলইডি, প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি টেলিভিশন বিনা শুল্কে আনা যাবে। তবে এর বেশি সাইজের জন্য কর দিতে হবে: ৩০-৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা, ৩৭-৪২ ইঞ্চি ২০ হাজার টাকা, ৪৩-৪৬ ইঞ্চি ৩০ হাজার টাকা, ৪৭-৫২ ইঞ্চি ৫০ হাজার টাকা, ৫৩-৬৫ ইঞ্চি ৭০ হাজার টাকা, এবং ৬৫ ইঞ্চির বেশি হলে ৯০ হাজার টাকা কর দিতে হবে।
- মিউজিক সিস্টেম: চারটির বেশি এবং সর্বোচ্চ আটটি স্পিকারসহ মিউজিক সিস্টেম বা হোম থিয়েটার সেট আনা যাবে, এ জন্য আট হাজার টাকা শুল্ক-কর দিতে হবে।
- রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজার: বিদেশ থেকে রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজার আনতে পারবেন, শুল্ক-করের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা।
- এয়ার কুলার ও এয়ার কন্ডিশনার: উইন্ডো টাইপের এসির জন্য ৭ হাজার টাকা, স্প্লিট টাইপের এসির (১৮০০০ বিটিইউ পর্যন্ত) জন্য ১৫ হাজার টাকা, এবং স্প্লিট টাইপের এসির (১৮০০০ বিটিইউয়ের বেশি) জন্য ২০ হাজার টাকা শুল্ক-কর বসবে।
- ডিশ অ্যানটেনা: ডিশ অ্যানটেনা আনলে সাত হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।
- স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিণ্ড: বছরে একবার সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার আনতে পারবেন, প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক ৫ হাজার টাকা।
- রৌপ্যবার বা রৌপ্যপিণ্ড: বছরে একবার সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের একটি রূপার বার আনতে পারবেন, প্রতি ভরিতে শুল্ক ৬ টাকা।
- ডিএসএলআর ক্যামেরা: এইডি ক্যামেরা, ডিভি ক্যামেরা, বেটা ক্যামেরা, ডিএসএলআর ক্যামেরা, মিররলেস, ইন্টারচেঞ্জেবল লেনস ইত্যাদি আনা যাবে, এ জন্য ১৫ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।
- ঝাড়বাতি: ঝাড়বাতি আনলে প্রতি পয়েন্টের জন্য ৩০০ টাকা করে কর দিতে হবে।
- ওয়াশিং মেশিন: ডিশওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন বা ক্লথ ড্রায়ার আনা যাবে, এ জন্য কর বসবে ৩ হাজার টাকা।
- এয়ারগান: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে এয়ারগান আনতে পারবেন, প্রতিটির জন্য ৫ হাজার টাকা শুল্ক বসবে।
ব্যাগেজ রুলের গুরুত্ব ও সুবিধা
ব্যাগেজ রুল যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা, যা বিদেশ থেকে উচ্চমানের গৃহস্থালি পণ্য আনতে সহায়তা করে। এটি শুল্ক-কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধভাবে পণ্য আমদানি করার একটি পথ খুলে দেয়, যা সাধারণত এলসি বা অন্যান্য জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই সম্পন্ন হয়। সরকার নিয়মিত এই রুল পর্যালোচনা করে, যাতে তা যাত্রীদের চাহিদা ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে মিল থাকে।
এই সুবিধা গ্রহণ করতে চাইলে, যাত্রীদের উচিত সর্বশেষ নিয়মাবলি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শুল্ক-কর সঠিকভাবে পরিশোধ করা। এটি না করলে আইনগত জটিলতা দেখা দিতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
