বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, রেমিট্যান্স ও আর্থিক প্রবাহে ইতিবাচক চিত্র
বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি

বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিসেম্বরভিত্তিক প্রতিবেদনে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্তের চিত্র উঠে এসেছে। সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বা ১৯৪ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্সের ভূমিকা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রপ্তানি প্রায় ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ২১২ কোটি ডলারে নেমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৭৬ কোটি ডলার, যা এখন বেড়ে ১৫৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তবে রেমিট্যান্সে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফলে চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে ৩৪ কোটি ডলারে নেমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ৫২ কোটি ডলার। রেমিট্যান্সের এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যকে ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি

বিদেশি বিনিয়োগ এবং ঋণ বৃদ্ধির ফলে আর্থিক হিসাবে ২০৫ কোটি ডলারের বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। এই উদ্বৃত্ত সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করছে।

এদিকে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো বেড়ে ৩৮ মাস পর সম্প্রতি ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বরে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ছিল, যা বর্তমানে পুনরায় অর্জিত হয়েছে। রিজার্ভের এই বৃদ্ধি দেশের আর্থিক সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত দিচ্ছে, যদিও বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।