বিশ্বজুড়ে সোনার বাজারে নতুন উন্মাদনা: দাম চারগুণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা
সোনার বাজারে নতুন উন্মাদনা: দাম চারগুণ বৃদ্ধি

বিশ্বজুড়ে সোনার বাজারে নতুন উন্মাদনা: দাম চারগুণ বৃদ্ধি

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সোনার বাজারে লেগেছে নতুন উন্মাদনা। গত এক দশকে সোনার দাম চারগুণ বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫,৬০০ ডলারে পৌঁছায়; পরে তা কিছুটা কমে প্রায় ৫,০০০ ডলারের নিচে স্থির হয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে, যা সোনার বাজার সম্পর্কে গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে।

সোনার মূল্য নির্ধারণ: ওজন ও বিশুদ্ধতার ভূমিকা

সোনার দাম বোঝার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ওজন (ট্রয় আউন্সে) ও বিশুদ্ধতা (ক্যারেটে)। এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১.১০৩৫ গ্রাম। বর্তমানে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলার ধরলে, প্রতি গ্রাম সোনার মূল্য প্রায় ১৬০ ডলার। আর ৪০০ ট্রয় আউন্স (১২.৪৪ কেজি) ওজনের একটি স্ট্যান্ডার্ড গোল্ড বার কিনতে খরচ হবে প্রায় ২০ লাখ ডলার, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় অঙ্কের লেনদেন নির্দেশ করে।

বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে ২৪ ক্যারেট মানে ৯৯.৯% খাঁটি সোনা, যা সাধারণত বার বা বিনিয়োগমুখী কয়েনে ব্যবহৃত হয়। ২২, ১৮ বা ৯ ক্যারেটে অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে, যা অলংকারে বেশি ব্যবহৃত হয়। গয়নার দামে স্পট প্রাইসের পাশাপাশি শ্রমমূল্য, কর ও আমদানি শুল্ক যুক্ত হয়, ফলে এটি ভোক্তাদের জন্য উচ্চমূল্যের হয়ে উঠতে পারে।

বৈশ্বিক বাজার ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৭১ সাল পর্যন্ত মার্কিন ডলার সরাসরি সোনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে সোনার দাম বাজারচাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে। ২০১৬ সালে যেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ১,২৫০ ডলার, এখন তা চারগুণ বেড়ে প্রায় ৫,০০০ ডলারে পৌঁছেছে। এই দ্রুত বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা প্রতিফলিত করে।

কোন দেশে কত সোনার রিজার্ভ?

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনার রিজার্ভ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, মোট ৮,১৩৩ টন। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি (৩,৩৫০ টন) এবং তৃতীয় ইতালি (২,৪৫১ টন)। এই রিজার্ভ দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের অবস্থান নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে অস্থিরতা বাড়লে সোনার চাহিদা আরও বাড়তে পারে। তবে উচ্চ দামে বিনিয়োগের আগে বৈশ্বিক সুদের হার, ডলারের অবস্থান ও রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় রাখা জরুরি। সোনার বাজার বর্তমানে একটি গতিশীল ও আকর্ষণীয় খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা ও সুযোগ উভয়ই প্রদান করে।