বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন নিয়ে একটি নতুন গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি বলছে, গত এক দশকে নারী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হন।
গবেষণার ফলাফল
গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০% নারী শ্রমিক এখন নিজের আয় নিজে পরিচালনা করেন, যা ২০১০ সালে ছিল মাত্র ৪০%। তবে মজুরি বৈষম্য এখনও বিদ্যমান; পুরুষদের তুলনায় নারীরা গড়ে ২০% কম মজুরি পান।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারী শ্রমিকদের মধ্যে ৬০% এখন তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন, যা আগের তুলনায় ১৫% বেশি। তবে কারখানায় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ
গবেষণার প্রধান লেখক ড. সাবরিনা আক্তার বলেন, "নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও, তাদের কাজের পরিবেশ ও মজুরি ন্যায্যতা নিশ্চিতে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন।" তিনি সুপারিশ করেন, নারীদের নেতৃত্বের পদে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা বাড়ানো।
গবেষণাটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামের ২০টি পোশাক কারখানায় পরিচালিত হয়। এতে ১২০০ নারী ও ৮০০ পুরুষ শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যার মধ্যে ৮০% নারী। এই শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০% এর বেশি। তাই নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণা প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নজর কেড়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই গবেষণার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারকরা নতুন উদ্যোগ নেবেন।



