প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।
বৃত্তি প্রাপ্তির সংখ্যা ও বিভাজন
এ বছর সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অথবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে।
বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা ও বরাদ্দ
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩,০০০টি এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০% এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০% বৃত্তি পাবে শিক্ষার্থীরা। সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক ৫টি করে বৃত্তি (২ জন বালক, ২ জন বালিকা এবং বাকি ১টি মেধার ভিত্তিতে) দেওয়া হয়। এ ছাড়া, বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০% সাধারণ বৃত্তি রাখা হয়েছে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও উপস্থিতির পরিসংখ্যান
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮,৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫,৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩,২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ৬,০০,০৪১ জন যেখানে ছাত্র ২,৫৬,১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩,৪৩,৯২৪ জন। পরীক্ষায় মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪,৮৩,৭৫৯ জন (৮০.৫৩%) যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩,৪৪,১২৭ জন (৮২.০৯%) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫,৪৫৫ জন (৮৪.১৬%)। উপস্থিত মোট পরীক্ষার্থীর ১,৬৬,৬৪১ জন (৩৯.৬৮%) ছাত্র এবং ২,৫৩,০৪১ জন (৬০.৩২%) ছাত্রী।
বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৮২ হাজার ২৪৬টি ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬,৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬,৫৯০ জন বৃত্তি পায়। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬,২৮১ জন যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬,৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯,৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫,৯৮২ জন (৪৫.২৯%) এবং ছাত্রী ৪৩,৩৫৪ জন (৫৪.৭১%)।
পরীক্ষার সময়সূচি ও পদ্ধতি
পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।
ফলাফল সংগ্রহের মাধ্যম
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশের পর অভিভাবকেরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখার অফিশিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



