ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব হতাশাজনক
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন। এই ঐতিহাসিক দিনে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও চলছে। তবে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো নারী প্রার্থীদের স্বল্প উপস্থিতি।
নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৪.২৪ শতাংশ
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে, বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের বরাতে জানানো হয়েছে, আজকের নির্বাচনে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী। এটি মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.২৪ শতাংশের সমান, যা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর ঘাটতি নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৭২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী, আর বাকি ৩৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি, যা দলগুলোর অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির অভাবকে তুলে ধরে।
রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার ভঙ্গের সমালোচনা
এ অবস্থার তীব্র সমালোচনা করে জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ উইমেনস পলিটিক্যাল রাইটস ফোরাম তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ে জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনে সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ায়, দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ফোরামের সদস্য সাদাফ সাআজ বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দলগুলোতেও, যেখানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, সেখানে এমন হতাশাজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে।’ তার মতে, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য শুধু অঙ্গীকারই নয়, বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় পর্যায়ের ভোট। তবে, নারী প্রার্থীদের স্বল্প সংখ্যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে না পারে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পূর্ণতা পাবে না।
ভবিষ্যতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো প্রস্তাব করা যেতে পারে:
- রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী কোটা বা বাধ্যতামূলক মনোনয়ন নীতি গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা।
- নারী প্রার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা।
- সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে নারী নেতৃত্বকে উৎসাহ দেওয়া।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও, নারী প্রতিনিধিত্বের এই ঘাটতি দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে আরও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
