মা দিবসে মায়ের পুষ্টি ও সম্মানের কথা ভাবার সময় এসেছে
মা দিবসে মায়ের পুষ্টি ও সম্মানের কথা ভাবার সময় এসেছে

মা দিবস এলে প্রতিবার মনে পড়ে হুমায়ুন আজাদের কবিতাটির কথা–‘আমাদের মা দিন দিন ছোটো হতে থাকে, আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে। আমাদের মা আর ছোট্ট পুকুর নয়, পুকুরে সাঁতার কাটতে আমরা কবে ভুলে গেছি। কিন্তু আমাদের মা আজও অশ্রুবিন্দু, গ্রাম থেকে নগর পর্যন্ত আমাদের মা আজও টলমল করে।’

আমরা নানাভাবে মাকে তুলে ধরার চেষ্টা করি, অনুভব করি আমাদের জীবনে মায়ের অবদান। যার যতটা সামর্থ্য সেইভাবে মাকে ভালো রাখার চেষ্টা করি। অথচ এই আমরাই কি কখনও লক্ষ্য করেছি, পরিবারে মায়েরা কী খাচ্ছেন? সবাইকে বেড়ে দিয়ে খাওয়ানোর পর মায়ের প্লেটে কতটা খাবার রয়ে গেলো?

কখনও কী ভেবেছি, মায়েরা কী কখনও মাংসের ভালো টুকরা, মাছের মুড়ো বা পেটি, গরম খাস্তা পরোটা, পুরো একটা ডিম ভাজি পেয়েছেন? কেউ বলতে পারবো না। কারণ আমরা আদতে কোনোদিন লক্ষ্যই করিনি মা কী খাচ্ছেন? মায়ের খাবারের প্লেট দেখবার মতো সময় বা সুযোগ কোনটাই পরিবারের অন্য সদস্যদের হয় না। এটাই অপ্রিয় বাস্তবতা। তাই আমাদের মায়েরা দিন দিন ছোট হতে থাকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যবিত্ত পরিবারে মায়ের খাদ্যাভ্যাস

মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে নির্ধারিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে মায়েদের স্বল্প খাওয়ার যে অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠে, সেই অভ্যাস তারা আর পরিবর্তন করতে পারেন না। যেমন- আমার আম্মাকে দেখেছি মাছ বা মাংস দুটো একসাথে খেতে চাইতো না। দুপুরে একা ভাত খাওয়ার সময় সামান্য কিছু দিয়ে খেয়ে নিতো। আম্মাকে দেখিনি শুধু নিজে খাবে বলে কোনোদিন কিছু রান্না করেছে বা নিজের জন্য তুলে রেখেছে। এ জন্য যখন আম্মা অনেককিছু পেয়েছিল, তখনও সেটা সে নিতে পারে নাই।

আর নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মায়েদের অবস্থাতো আরও কঠিন ও করুণ। বাসাবাড়িতে কাজ করার পর তাকে যে খাবার দেওয়া হয়, সেই খাবার সে সবসময় বাটিতে ভরে বাসায় থাকা সন্তানের জন্য নিয়ে যায়। প্রায় সব ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটে থাকে। সন্তানকে অভুক্ত রেখে কোনও মা-ই মুখে খাবার তুলতে পারে না। এরকম আরও অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মায়ের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের গুরুত্ব

মায়ের জন্য যে পুষ্টি, বিশ্রাম, আরাম ও চিকিৎসা লাগে এগুলো খুব সাম্প্রতিক ধারণা। পরিবারের অন্যান্য নারী সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সবাইকে ভাগ-বাটোয়ারা করে খাওয়ানোর জন্যই যেন এই মানুষগুলোর জন্ম।

বাসায় যা কিছু রান্না হতো বা হয়, তার ভালো অংশটা পরিবারের কর্তা অর্থাৎ পুরুষ ব্যক্তিটির জন্য বরাদ্দ। স্বামী বা ছেলে সংসারে যে বেশি কনট্রিবিউট করে, তার জন্য রাখা হয়। বাসায় একটি মুরগি রান্না হলে আম্মা কি কখনও মুরগির রানটা খেয়েছেন? আমি কি দেখেছি আম্মাকে ভালো কিছু খেতে? মায়েরা পান মুরগির গলা, মাথা, কলিজা বা ঝোল, মাছের কাঁটা বা লেজ, বেগুনের ঘ্যাট, ভর্তা অথবা তাও পান না। তাইতো মায়েরা বাটি থেকে তরকারি তুলে নেওয়ার সময় এখনও সেই অংশ বা পার্টসগুলোও তুলে নেন। ভালো টুকরাটা নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না, এটাও সেই অভ্যস্ততা।

বড় হতে হতে দেখে আসছি, আমাদের সংসারগুলোতে মায়েরা ছিলেন সবচেয়ে বেশি কর্মঠ, দায়িত্বপালনকরী শক্তি। সন্তানের স্কুলের কাপড়-চোপড়, টিফিন থেকে শুরু করে ঠিক সময়ে টেবিলে নাস্তা, ভাত সবকিছুর যোগানদার ছিলেন আম্মা। বাসায় ছয় জনের জায়গায় ১০ জন মানুষ খেলেও সেই ব্যবস্থা করবে আম্মা। স্বল্প আয়ে সংসার তরণী বয়ে নিয়ে যাওয়ার কঠিন দায়িত্ব ছিল আমাদের মায়েদের।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব

মায়েদের খাবারের তালিকায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার থাকা জরুরি, সেটাও আমরা জানি না অথবা সচেতন নই। তেমনই চল্লিশের ঘর পেরোলেই নারীর হাড় ক্ষয় হতে থাকে এবং হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। মেনোপজের পর হাড়ের মধ্যে নতুন কোষ গঠনের ক্ষমতা কমে যায়। তখন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে ও হাড়ের নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে ক্যালশিয়াম। শরীরে ভিটামিন ডির অভাবও থাকে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির অভাব হলে ‘অস্টিওপোরোসিস’ সহজ ভাষায় হাঁটু ব্যথা, কোমর ব্যথা, মেরুদন্ডের ক্ষয়, অস্থিক্ষয় ইত্যাদি হয়ে থাকে। বিষয়টি সম্পর্কে সার্বিক অসচেতনতা এবং মা ও মেয়েদের প্রতি উপেক্ষার কারণেই চল্লিশ পেরুবার পরপরই নারীরা ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হন।

আয়রনের অভাব ও রক্তশূন্যতা

মায়ের শরীরে আয়রনের অভাব হলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানেমিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। রক্তে আয়রনের অভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রকট। গ্রামে আমাদের মায়েরাই হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল পালেন, ডিম ফুটান, আঙ্গিনায় মৌসুমি শাকসবজি উৎপাদন করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে আসছেন। কিন্তু তার উৎপাদিত পুষ্টি কি তার শরীরের চাহিদা মেটাচ্ছে? মা পরিবারের সবার পুষ্টির যোগান দেন, অথচ নিজের পুষ্টির বিষয়ে তিনি বা আমরা কেউ সচেতন নই।

তাই মায়েদের জন্য রক্তশূন্যতায় ভোগা, মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, বাতের ব্যথা, খিঁচুনি, পানি স্বল্পতা, জরায়ু সংক্রমণ খুব সাধারণ অসুখ। অতিরিক্ত পরিশ্রম আর পরিমিত পুষ্টির অভাবে খুব অল্প সময়েই তাদের শরীর-স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। এইভাবে যখন মায়ের শরীর ভেঙে পড়ে, তখন তিনি সংসারে অপাঙতেয় হয়ে পড়েন।

অথচ মা ছাড়া আমরা অসহায়, আমাদের সংসার শূন্য। মায়েদের সেবা ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনোকিছুই সুন্দরভাবে হয় না। মায়ের তত্বাবধান ছাড়া সন্তানের বেড়ে ওঠা কঠিন। মনখারাপ ও অসুস্থতার সময় সবচেয়ে বেশি দরকার মাকে। মনে পড়ে, স্কুল থেকে বাসায় ঢুকে চিৎকার করে বলতাম, ‘আম্মা খিদা লেগেছে, খাবার দাও।’ তারপর খেয়েদেয়ে আম্মার আঁচলে মুখ মুছে চলে যেতাম। ব্যস আমার দায়িত্ব শেষ।

মায়ের অবদানের মূল্যায়ন

সবসময় বলি মা হলো, বাসার প্রকৃত বস। এই বস হচ্ছেন, কাজ করার ও ব্যবস্থাপনার বস কিন্তু সুবিধাদি পাওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের অবস্থান সবচেয়ে পেছনে। তার সুবিধা-অসুবিধা, খাবার-দাবার কিছুই আমরা লক্ষ্য করি না। আজ বুঝতে পারি সংসারে মায়ের যে কাজের ভার, তা আর কারও কাজের চেয়ে কোনও অংশে কম না, বরং বেশি। বাবারা আয় করেন কিন্তু সেই নির্ধারিত আয়ে সবার মুখে খাওয়ার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব মায়ের। অবশ্য মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের ছিল না।

লক্ষ্য করি, কোনও অনুষ্ঠানে যখন সবাই গর্ব করে যার যার পেশার কথা বলেন, তখন দেখি কেউ একজন অবনত মুখে বলেন, আমি কিছু করি না বা আমি শুধু সংসার করি। তাদের দেখে মনে হয়, তাঁরা যেন নিজেদের পরিচয় নিয়ে লজ্জিত। কারণ তাঁরা কোনও চাকরি করেন না। এই সংসার ও সমাজ তাঁদের ধারণা দিয়েছে যে, তাঁরা কিছু করেন না।

সকাল থেকে রাত অব্দি সংসারের জন্য তাঁরা যা করেন, কখনও কি সেই কাজের হিসাব করে দেখেছে কেউ? সেই কাজটা মা না করে অন্য কাউকে দিয়ে করালে এই খাতে পরিবারের কী পরিমাণ খরচ হতো একবার কি ভেবে দেখেছি? মায়া-মমতা, নিরাপত্তার প্রশ্নতো আছেই। মা বা গৃহিণী না থাকলে কতধরণের ঝামেলা পোহাতে হতো পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। মা গৃহে আছেন বলেই স্বামী, সন্তান যথাসময়ে যথাযথ তাদের সুবিধাগুলো পাচ্ছেন।

পরিবারের সবার রোগে-শোকে পাশে থাকা, সংসারের সব কাজ করা, বয়স্ক মানুষের দেখাশোনা করা, সন্তানকে পড়ানো, টিফিন তৈরি করা, স্কুলে আনা নেওয়াসহ আরও অনেক সাংসারিক দায়িত্ব পালন করেন সেই গৃহিণী মা, যিনি মনে করেন তিনি কিছু করেন না।

রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অর্থনীতিতে নারীর অবদান

শুধু সমাজ বা পরিবার নয়, এই মায়েদের রাষ্ট্রও কোণঠাসা করে রেখেছে। কারণ অর্থনীতিতে নারীর অবদান এখনও যথার্থ দৃষ্টি পাচ্ছে না। নারী তার সময়ের একটা বড় অংশ বাজারকেন্দ্রিক কাজের চেয়ে বাজার বহিভূর্ত কাজে ব্যস্ত থাকেন। এই বিনামূল্যের গৃহস্থালি কাজগুলোকেই অ-অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অস্বীকৃত এবং অদৃশ্য কাজগুলো শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রান্না, শিশুযত্ন, বয়স্ক মানুষের যত্ন নয়। এর সঙ্গে আছে কৃষিকাজ, গবাদিপশুর দেখাশোনা ও বীজ সংরক্ষণ।

যেহেতু পরিবারে ও সমাজে মায়েদের এবং মেয়েদের অবস্থান অধস্তন তাই বাংলাদেশের নারীদের পুষ্টি পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হচ্ছে না। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১ কোটি ৭০ লাখ নারী অপুষ্টির শিকার। তাঁদের একটি অংশ রীতিমতো অপুষ্ট, তাঁদের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় কম। কয়েকবছর আগে, (সম্ভবত ২০২০-২১) আইসিডিডিআরবি দেশের নারীদের পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে এ তথ্য দিয়েছে।

যদিও এখন নারীরা বাইরে এসে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তাই বলে কি সংসারের কাজ কমেছে তাদের? বরং দুটি দায়িত্বই তাদের বহণ করতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে এখনও খুব সামান্য সংখ্যক নারী নিজের মতো করে, নিজের পছন্দসই খাবার খেতে পারেন। এখনও আমাদের সন্তানরা লক্ষ্য করার সময় পায় না, তাদের মা কেমন আছেন, কী খাচ্ছেন? প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ ও চিকিৎসা করতে পারছেন কিনা?

পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একজন নারীর স্বাস্থ্যরক্ষায় বয়ঃসন্ধিকালসহ সব বয়সেই শরীরের প্রয়োজন অনুসারে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সেই পুষ্টি কি নারী পাচ্ছেন? আমাদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে একজন নারী মা হওয়ার সময়ও ঠিকমতো পুষ্টির যোগান পান না, বরং এ সময়টাতেও গর্ভবতী নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন বলে বিবিএস’র সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের শহরে বা গ্রামে সাধারণ নারীদের ধারণা ‘ঘরের বউ’ বা ‘সন্তানের মা’ হয়ে সুন্দরভাবে থাকা বা পছন্দসই কিছু করা তাঁদের মানায় না। আমরা আধুনিক হয়েছি, পড়াশোনা শিখছি, আয় করছি, পোশাকে জৌলুস বেড়েছে কিন্তু অধিকাংশ পরিবারে নারীর অবস্থান এখনও সেই অবহেলিত নারীর মতোই রয়ে গেছে।

পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা

আমাদের পরিবারগুলোতে স্বামী ও ছেলেকে তুলে খাওয়ানোর লোক থাকে, কিন্তু মা ও বউকে তুলে খাওয়ানোর কেউ থাকে না। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি একপেশে। আর এই একপেশে দৃষ্টিভঙ্গীর সবচেয়ে বড় বলি হয় আমাদের মায়েরা।

এদেশে আশি শতাংশ নারী রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। কারণ তারা যথেষ্ট খেতে পারেন না (সূত্র: আইসিডিডিআরবি)। পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, দারিদ্র্য ও অশিক্ষার হার যেখানে বেশি, সেখানেই বেশিরভাগ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। গর্ভবতীদের মধ্যে প্রত্যেক তিন নারীর একজন অপুষ্টিতে ভুগছেন। তাঁরা রক্তস্বল্পতা ও অপুষ্টি নিয়ে গর্ভবতী হন। ফলে গর্ভের শিশু সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে না এবং কম ওজন নিয়ে শিশুর জন্ম হয়।

এখন মানুষের বায়িং ক্যাপাসিটি বেড়েছে, মাছ-মাংস কেনার হার বেড়েছে। কিন্তু সমাজ আর অর্থনীতি নারীকে কম ও উচ্ছিষ্ট খেতে অভ্যস্থ করে তুলেছে। ‘বেশি’ বা ‘বড়’ জিনিসটা নেওয়া বা খাওয়াটা লজ্জার এই ভাবনায় অভ্যস্থ করে তোলে। তাই সচ্ছলতা এলেও অধিকাংশ নারী ভালোটা আর নিতে পারেন না।

‘সারা দিন করোটা কী?’ মায়ের ও গৃহিণীর প্রতি সংসার এবং সমাজের এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী বদলানোর জন্য নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে আগে। নতুন করে ভাবতে হবে নিজেকে নিয়ে, নিজের চাহিদা নিয়ে। নয়তো দিনে দিনে ছোট হয়ে যেতে হবে।

শাহানা হুদা রঞ্জনা
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক