মায়ের কাছে ছেলের চিঠি: ক্যাম্পাসের যান্ত্রিকতায় শূন্যতা
মায়ের কাছে ছেলের চিঠি: ক্যাম্পাসের যান্ত্রিকতায় শূন্যতা

ছবি: এআই/বন্ধুসভা

মায়ের কাছে ছেলের চিঠি: ক্যাম্পাসের যান্ত্রিকতায় শূন্যতা

রুমের মধ্যে হাজারটা মানুষ থাকলেও কেউ জিজ্ঞাসা করে না, কেমন আছি? জানো মা, এখানে সবাই একসঙ্গে থাকে, কিন্তু কেউ কারও মনের খবর রাখে না।

প্রিয় মা, কখনো বলা হয়নি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। বলা হয়নি, আমার অস্তিত্বজুড়ে তুমি কতটা মিশে আছ! দীর্ঘ ১৭ বছর তোমার আঁচলের ছায়ায়, তোমার মায়ার চাদরে আবৃত ছিলাম। তখন বুঝিনি তোমার কাছ থেকে দূরে যাওয়া মানে কতটা শূন্যতা বয়ে বেড়ানো। আজ যখন তোমার কাছ থেকে যোজন যোজন দূরে, তখন প্রতিটি মুহূর্তেই টের পাই—তুমি ছাড়া আমার প্রতিটি নিশ্বাস যেন অপূর্ণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে প্রথম পা রাখার সেই দিনের কথা মনে পড়ে। আমার চোখে ছিল কত স্বপ্ন, মনে ছিল কত আনন্দ! কিন্তু ক্যাম্পাসজীবনে এই ইট–পাথরের বিষাদ নগরীতে যখন প্রথম পা রাখলাম, তখনই বুঝলাম—স্বপ্নগুলো তো কেবলই খোলস। আমার আসল জায়গা, আমার প্রশান্তি তো তোমার বুকের মাঝখানে। রাতে যখন একা বিছানায় শুতে যাই, বুকের মাঝখানটা কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগে! মনে হয়, কী যেন একটা নেই! জানো মা, মাঝেমধ্যে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে খুব মনে পড়ে তোমাকে। আমার দুই চোখে তখন শ্রাবণধারা কিছুতেই বাঁধ মানে না। তখন তোমার আঁচলের সেই চেনা ঘ্রাণ খুঁজে ফিরি। সেই ছোট্টবেলার রূপকথার পঙ্খিরাজ ঘোড়ার গল্পগুলো বড্ড শুনতে ইচ্ছা করে। জানো মা, বড্ড ইচ্ছা করে, এই ইট–পাথরের বিষাদ নগরী ছেড়ে একছুটে পালিয়ে যাই তোমার আঁচলের গন্ধে, তোমার বুকের মাঝখানে।

অভাবী দিন ও মায়ের রান্নাঘর

৪০ মিনিট আগে

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মা, এখানকার জীবনটা বড্ড যান্ত্রিক। সকালবেলা ঘুম ভাঙলে কেউ বলে না, ‘তোর খাবারটা রেডি আছে খেয়ে নে।’ খাবার না খেলে কেউ জোর করে খাইয়ে দেয় না। জানো মা, সারা দিন না খেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ রাখে না; অথচ তুমি দিনে তিনবার নিয়ম করে কত আদর ও যত্নে খাইয়ে দিতে। রুমের মধ্যে হাজারটা মানুষ থাকলেও কেউ জিজ্ঞাসা করে না, কেমন আছি? জানো মা, এখানে সবাই একসঙ্গে থাকে, কিন্তু কেউ কারও মনের খবর রাখে না। আর তুমি আমার মুখটা দেখে দিব্যি বুঝে নিতে, কষ্টে আছি না সুখে আছি।

জানো মা, প্রতিবারই যখন বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় হয়, তখন তোমার মধ্যে যে অস্থিরতা কাজ করে, এটা দেখে আমার যে কী কষ্ট হয়, তা বলে বোঝাতে পারব না। তোমার চোখের দিকেও তাকাতে পারি না, তখন আমার চোখে শ্রাবণধারা। তোমার চোখে চোখ রাখলেই তো তুমি দেখে ফেলবে তোমার পাগলি মেয়েটা কান্না করছে। জানো মা, তোমাকে না অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। আমার নিশ্বাসের প্রতিটি স্পন্দনে তোমাকে অনুভব করি। আমার ছোট্ট মনের প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছ শুধু তুমি। যেমন সাগরের বুকজুড়ে লুকিয়ে থাকে অমূল্য মানিক–রতন।

আমার এই ২২ বছরের জীবনে কখনো তোমাকে লেখা হয়নি মা। এটাই তোমাকে নিয়ে আমার প্রথম লেখা। পৃথিবীর সবটুকু ভালোবাসা শুধু তোমার তরে। মা, তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি।

সাধারণ সম্পাদক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা

ফিচার থেকে আরও পড়ুন: জীবনযাপন, বন্ধুসভা ফিচার, মা দিবস