হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অধিকার সুরক্ষা এবং সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তিকরণে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা।
আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন
মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের একটি হোটেলে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির (বন্ধু) আয়োজনে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘কর্মে অন্তর্ভুক্তি: হিজড়া ও প্রান্তিক যুবকদের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও মর্যাদার উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার একেএম মাহবুবুল ইসলাম তানভীর। ‘জীবিকা উদ্যোগ- বন্ধুর সঙ্গে একটি যাত্রা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা কাজী সাফকাত শরীফ।
সংগঠনের এডভোকেসি ও কমিউনিকেশন্স ম্যানেজার মো. মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কোয়ালিটি অ্যান্ড ইনোভেশনের হেড অব প্রোগ্রাম মো. মনোয়ারুল ইসলাম, জেন্ডার এন্ড প্রোটেকশনের এডভাইজার সানজিদা আহমেদ, সাংবাদিক আতিকা রহমান, বায়েজীদ আহমেদ, পলাশ, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর শোভা চৌধুরী, নুসরাত জাহান মীম, টয়া, অরভী, শান্তনা আক্তার জেনিফা প্রমুখ।
বক্তাদের মূল বক্তব্য
একেএম মাহবুবুল ইসলাম তানভীর বলেন, সমাজ হিজড়া কমিউনিটি সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ায়, যা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। গণমাধ্যম তাদের সফলতার কথা প্রচার করলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কাজী সাফকাত শরীফ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর ক্যারিয়ার উন্নয়নে, চাকরি প্রার্থীদের বায়োডাটা তৈরি, ব্যবসা, উদ্যোক্তা, বিদেশে যাওয়া ইত্যাদি পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমে তাদের আওয়াজ তুলে ধরা, আইনি সহায়তা এবং জলবায়ু সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করছে বন্ধু।
সানজিদা আহমেদের মতে, সংবিধানে সব মানুষেরই মৌলিক অধিকার রয়েছে। খাদ্য, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা একজন মানুষের প্রয়োজন। তেমনি মানুষ তাকে সম্মান করবে এটাও তার অধিকার। হিজড়া জনগোষ্ঠী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে তৈরি হয়েছেন। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগ দেবে, সেই প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীরা আচরণগতভাবে তৈরি কিনা সেটাও দেখার বিষয়। দুই পক্ষকেই তৈরি হতে হবে জানালেন তিনি।
মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সামাজিক চিন্তাভাবনা পরিবর্তনে আমরা কাজ করছি। হিজড়া জনগোষ্ঠীর খাদ্য, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিক অধিকার একটি বড় অধিকার। এখানে আইনী নীতিমালা থাকা দরকার। আইনী নীতিমালা যারা বাস্তবায়ন করবে তাদেরকেও অনুকরণ ও অনুসরণ করে এগোতে হবে। পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতাও সমাজে বাড়াতে হবে।
মশিউর রহমান বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ইতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করলে তা শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এজন্য হিজড়া জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক দিকগুলো চলচ্চিত্র, নাটক ও গণমাধ্যমে তুলে ধরা দরকার।



