যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর চুল কেটে ভিডিও, ছুরিকাঘাতে জখম
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর চুল কেটে ভিডিও, ছুরিকাঘাতে জখম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে মাদকাসক্ত স্বামী ও তার স্বজনরা এক গৃহবধূর চুল কেটে ভিডিও ধারণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওই গৃহবধূকে নির্যাতন ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী দীন ইসলাম দেলু পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপুরে নির্যাতিতা গৃহবধূর মা পুতুল বেগম বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিম আক্তার জানান, ২০১৯ সালে আখাউড়া উপজেলার রামধনগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম দেলুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মাহাদী নামে তাদের পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। সম্প্রতি স্বামী তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। দাবি পূরণ না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন মিম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের বক্তব্য

আহত গৃহবধূ মিম আক্তারের কলেজপড়ুয়া ছোট ভাই জিহাদুল ইসলাম ও তার মা পুতুল আক্তার যুগান্তরকে জানান, দীন ইসলাম নরসিংদীতে দোকান ভাড়া নিয়ে সেলুনের কাজ করেন। গত কিছুদিন যাবত ব্যবসার কাজের প্রয়োজনে মিম আক্তারকে ৫ লাখ টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে আবারও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন দীন ইসলাম। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দীন ইসলাম স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।

তারা জানান, একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে ভিডিও ধারণ করা হয়। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যান দীন ইসলাম। ছুরিকাঘাতে মিমের হাত ও মুখে গভীর ক্ষত হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গৃহবধূ মিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, 'আমার মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, তার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'

পুলিশের অবস্থান

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দীন ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আখাউড়া থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, 'থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।' অভিযুক্ত দীন ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।