মে দিবসের চেতনা ও বাংলাদেশের শ্রমিকের বাস্তবতা
মে দিবসের চেতনা ও বাংলাদেশের শ্রমিকের বাস্তবতা

পহেলা মে মহান মে দিবস। এটি শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিক সংহতির দিন। শ্রমিকের অধিকার ও মুক্তির লক্ষ্যে এটি তাদের একটি প্রতীকী দিবস। প্রায় দেড়শ বছর দুনিয়াব্যাপী শ্রমিক শ্রেণির অধিকার, মুক্তি ও তার যাবতীয় মানবিক দাবি নিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হে মার্কেটে’ শ্রমিকদের আন্দোলনে ৮ ঘণ্টা শ্রম, ন্যায্য মজুরি ও মানবিক জীবনের দাবি জানানো হয়। শিকাগোর হে মার্কেট রক্তগঙ্গায় ভেসে গিয়েছিল। ১৮৮৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের নেতৃত্বে ‘মে দিবস’ শ্রমিকের অধিকার অর্জনের দাবি হিসেবে উচ্চারিত হয়।

শ্রমিক আন্দোলনের বিবর্তন

শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা শ্রম, ৮ ঘণ্টা বিনোদন ও ৮ ঘণ্টা বিশ্রামের দাবি জানায়। কালক্রমে মে দিবসের চেতনা ট্রেড ইউনিয়নের দাবি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক চেতনার আন্দোলনে পর্যবসিত হয়। লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার মহান অক্টোবর বিপ্লব শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে সংঘটিত হয়। পরে চীন, ভিয়েতনাম, কিউবা, কোরিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিপ্লব হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশে মে দিবস ও শ্রমিকের অবস্থা

বাংলাদেশে মে দিবসে সরকারি ছুটি। স্বাধীনতার পর থেকে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। তবে বাস্তবে শ্রমিক শ্রেণির অবস্থা নাজুক। তারা শোষণ, নির্যাতন ও অমানবিক নিপীড়নের শিকার। শিল্প, কলকারখানা ও গ্রামীণ ক্ষেতমজুররা উৎপাদনের চাকাটি সচল রাখলেও তাদের জীবনে গুণগত পরিবর্তন হয়নি।

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার

শ্রমিকের মজুরি নিম্ন পর্যায়ের। মাসে প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো কঠিন। নারী শ্রমিকদের মজুরি ক্ষেত্রে সীমাহীন বৈষম্য রয়েছে। জাতীয় মজুরি স্কেল এখনও নির্ধারিত হয়নি। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আইন-কানুনের অভাব রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক ভূমিকা ও ভোটাধিকার

গত দেড় দশকে ভোটের অধিকার না থাকায় শ্রমজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এবারের নির্বাচনে অনেক শ্রমিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। কিন্তু জাতীয় সংসদে শ্রমিকের পক্ষের প্রকৃত প্রতিনিধি নেই। নির্বাচনি ব্যবস্থা টাকার খেলায় পর্যবসিত হয়েছে।

শ্রমিকের সংহতি ও মুক্তি

শ্রমিকদের অমানবিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে হলে তাদের নিজেদেরই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিপ্লবী পরিবর্তন ছাড়া শ্রমদাসত্ব থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। মে দিবসে বিশ্বের সব শ্রমিকের মঙ্গল কামনা করছি।