অনার কিলিং: পরিবারের সম্মানের নামে নারী হত্যার ভয়াবহ চিত্র
অনার কিলিং: পরিবারের সম্মানের নামে নারী হত্যা

পালিয়ে বিয়ে করার অপরাধে পারুলকে খুন হতে হয়েছিল বাবার হাতে। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্য। পারুলের ক্ষুব্ধ বাবা মনে করেছিল, মেয়ে নিজের পছন্দে বিয়ে করে সমাজের চোখে তাকে চরমভাবে অপমানিত করেছে। সেই রাগ ও ক্ষোভ থেকে এই বাবা তার মেয়েকে হত্যা করে। সেই পরিকল্পনার অংশী হয়েছিল পারুলের বাবার বন্ধু ও ভাড়াটে খুনি।

পিবিআই তদন্তকারীদের বক্তব্য

পিবিআই তদন্তকারীরা বলছেন, পারুলের এ ঘটনা একটি ‘অনার কিলিং’। অনার কিলিং বলতে বোঝায়— পরিবারের তথাকথিত সম্মান রক্ষা বা সম্মানহানির জন্য পরিবারের সদস্যকে হত্যা করা। সাধারণত প্রেম করে বিয়ে, পরিবারবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া বা সামাজিক রীতির বাইরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ‘অনার কিলিংয়ের’ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনার নজির কম। তবে বিচ্ছিন্নভাবে ঘটছে।

ঘটনার বিবরণ

নানাধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জয়পুরহাটে মেয়েকে নিয়ে গিয়ে ওড়না দিয়ে তার হাত-পা বাঁধে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পারুলের বাবা। পরে লাশ তুলসীগঙ্গা নদীতে ফেলে ওই রাতেই টাঙ্গাইলে ফিরে আসে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর শুরু হয় পারুলের বাবার নাটক। মেয়ের খোঁজ নেই, বাবা কখনও থানায় ছুটছে, কখনও তদন্ত সংস্থার দরজায়, আবার কখনও আদালতে গিয়ে মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার আর্তি জানিয়েছে। টানা সাত বছর ধরে চলতে থাকে তার এই দৌড়ঝাঁপ। মেয়ে নিখোঁজের পেছনে জামাতার হাত রয়েছে বলে সন্দেহের কথা বলে পারুলের বাবা।

পারুলের বাবার ক্রোধ এতটাই বেশি ছিল যে, মামলা চালাতে গিয়ে সে জমিজমা বিক্রি করে, ঋণ করেছে কিন্তু তাও নতুন করে তদন্ত চেয়েছে। পারুলের বাবার এই ক্রোধের কারণেই শেষপর্যন্ত আসল অপরাধী ধরা পড়ে এবং সেটা সে নিজে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এবার পিবিআই বাবার অভিযোগ নয়, মেয়েটির স্বামীর করা নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত করে এবং সেটার সূত্র ধরেই তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে মেয়েটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল তার বাবা। পিবিআই এই হত্যার রহস্য উদ‌ঘাটন করে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে।

অনার কিলিংয়ের অন্যান্য উদাহরণ

পারুল একা নয়, অনার কিলিং এর বলি হয় এদেশের অনেক মেয়ে। কয়েক বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক কিশোরীকে তার বাবা, বড় ভাই ও মামা মিলে হত্যা করেছে। বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে দেখা গেছে, এই অপরাধে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে, ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার’ জন্যই তারা মেয়েটিকে সবাই মিলে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ছেলেরাও হতে পারে এর শাস্তির ভিকটিম। যেমন- সাতক্ষীরার গৃহস্ত পরিবারের একটি মেয়ে একজন দলিত ছেলেকে বিয়ে করায় মেয়েটির পরিবার মনে করে এতে তাদের সম্মান নষ্ট হয়েছে। তারা ছেলেটিকে মারধর করে, জোর করে তালাক আদায় করে এবং তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারশুদ্ধ গ্রামছাড়া করেছিল।

কাউকে কাউকে হয়তো হত্যা করা হয় না, কিন্তু নানাভাবে শাস্তি দেওয়া হয়। ২০২২ সালের দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলায় ক্লাস এইটে পড়া একটি মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এরপর গ্রাম্য সালিশে বিচার করে মেয়েটির অমতেই ধর্ষকের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হলো।

সালিশকারীরা এবং মেয়েটির পরিবার মনে করেছিল এতে করে মেয়েটির ‘পরিবারের সম্মান রক্ষা’ হয়েছে। দেশের বহু মেয়েকে এভাবে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে পরিবারের বা মেয়েটির সম্মান রক্ষার বাহানা করা হয়। অথচ আমরা জানি, ধর্ষণ ও অপহরণের কোনও সালিশ হয় না এবং ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়াটাও অপরাধ।

অনার কিলিংয়ের কারণ

কিন্তু কেন পরিবারের সদস্যরাই ‘সম্মান রক্ষার নামে’একজন নারীকে হত্যা করে বা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়ে থাকে বা শাস্তি দেয়? অনেক কারণের মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ— নারীর কুমারীত্ব। তারা মনে করে, এই কুমারীত্বই নারীর সম্মানের মূল জায়গা।

ধর্ম, জাত ও শ্রেণিভেদে নারীকে মনে করা হয় পরিবারে পুরুষের সম্পদ। নারীর ভাগ্য কী হবে, সেটা নির্ধারণ করবে তার মালিক— অর্থাৎ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। এই সদস্য বাবা, স্বামী, ভাই, মামা বা চাচা যে কেউ হতে পারে। নারীর শরীর, মন ও ইচ্ছার ওপর তার নিজের কোনও অধিকার নেই। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ‘নারীর কুমারীত্ব রক্ষা’ করবে। এখানে নারীর স্বাধীনতাকে পরিবারের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হয়।

পরিবারিক সহিংসতার পরিসংখ্যান

অবশ্য দেশের সাধারণ মানুষ পারিবারিক সহিংসতাকে এখনও নিছক পারিবারিক, ধর্মীয় ও সামাজিক আইন ভঙ্গের দায়ে অপরাধ বলে মনে করেন। এই কারণেই সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী, অর্থাৎ শতকরা ৭৬ ভাগ নারী তাদের জীবনে অন্তত একবার জীবনসঙ্গী বা স্বামী কর্তৃক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক, যৌন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক সহিংসতা, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ।

প্রায় অর্ধেক নারী অর্থাৎ শতকরা ৪৯ জন নারী গত এক বছরে এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। উদ্বেগজনকভাবে, তিনজনের মধ্যে দুজন ভুক্তভোগী অর্থাৎ ৬২ শতাংশ নারী সহিংসতার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা কখনোই প্রকাশ করেননি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএনএফপিএ জরিপে ২০২৫ সালে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

পরিসংখ্যানটি দেখে মনে হলো, পশ্চাৎপদ ধ্যানধারণার কারণে আমাদের সমাজের নারীদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। ক্রমে বাড়তে থাকা পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

সাংস্কৃতিক প্রভাব

অনার কিলিং সম্পর্কে সংবাদটি পড়ার পর ‘ডার্ক চকলেট’ নামে একটি মুভির কথা মনে হলো। সিনেমার ঘটনাটি হচ্ছে, একটি মেয়ে তার স্টেপ বাবার দ্বারা দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, অথচ পালাতে চেয়েও পালাতে পারেনি। মা এ নির্যাতনের কথা জানলেও সমাজের ভয়ে কোথাও মেয়েকে মুখ খুলতে দেননি এবং নিজেও মুখ খুলেননি। ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং শেষ অব্দি সেই নির্যাতিত মেয়েটি একজন ক্লিনিক্যাল অপরাধীতে পরিণত হয়।

বাস্তবে আমাদের অনেক মেয়ে এভাবেই তার গৃহে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কিন্তু সমাজের ভয়ে, পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য মেয়েটিকে বাধ্য করা হয় নিপীড়ণ ও নোংরা পরিবেশে জীবনযাপণ করতে। পরিবারের ভেতরে যৌন নির্যাতনের শিকার এই মেয়েগুলো কখনও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনও আত্মহত্যা করে, কখনো বা মুখ বন্ধ রেখেই মারা যায়। পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হবে, এই ভেবে তারা নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলতে পারেন না। এই মেয়েগুলোও এক ধরনের অনার কিলিং এর শিকার।

অনার কিলিংয়ের শিকার কারা?

অনার বা শেইম কিলিং এর নামে কাউকে বিশেষ করে নারীকে যে নির্যাতন বা শাস্তি দেওয়া হয়, তা একটি অপরাধ। সাধারণত নিজের পরিবার বা সমাজের বাইরে বিয়ে, ভিন্ন ধর্মে বিয়ে, বিয়ের আগে বা পরে প্রেম, ধর্ষণের বা যৌন হয়রানির শিকার হওয়া, নিজের ইচ্ছা মতো সাজগোজ করা, সমকামী ও হিজড়া এদেরকে অনার কিলিং এর শিকার হতে হয়। তবে নারীরাই বেশি ভিকটিম হয়ে থাকেন।

কোনও কোনও সময়ে পরিবারের কালো, খাটো, বোকা বা প্রতিবন্ধী মেয়েটিকেও নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। বিয়ে হয় না, কাজ করতে পারে না বা সন্তান হয় না বলে গালাগালিও করে, ফলে মেয়েটি একসময় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়, এগুলোও এক ধরনের হত্যা। পরিবার তাকে বাধ্য করে মৃত্যু বেছে নিতে।

সাধারণত পরিবারের লোকেরাই ‘অনার কিলিং’ ইস্যুতে হত্যা ও নির্যাতনের পরিকল্পনা করে, যেমনটি করেছিল পারুলের বাবা। একে পারিবারিক আদালতের বিচারও বলা যায়। শুধু হত্যা নয়, এসিড নিক্ষেপ, অপহরণ, যৌন হয়রানি, মারধর সবই ঘটে অনার কিলিং এর নামে।

হিজড়া সম্প্রদায়ের ওপর অনার কিলিং

একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হিজড়া হওয়ার দায়ে বাবা-মা সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। শুধুমাত্র লোকলজ্জা এড়ানোর জন্য বা পরিবারের সম্মান রক্ষা করার জন্য তারা এই কাজটি করেছেন। এদের অনেকেই পরিবারের কাছ থেকে আশ্রয়চ্যুত হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছেন।

একজন মা একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ছোটবেলায় যদি তিনি বুঝতে পারতেন যে, তার সন্তানটি হিজড়া, তাহলে তখনই তিনি গলা টিপে মেরে ফেলতেন। ধামরাইতে হিজড়া পল্লীতে থাকা একজন হিজড়া বলেছেন, তার বাসায় তাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র টের পেয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। কারণ তার বাবা-মা তার এই মেয়েলি স্বভাবের জন্য গ্রামে মুখ দেখাতে পারছিলেন না। এই আচরণকে আমরা ‘অনার কিলিং’ ছাড়া আর কী বলতে পারি?

‘সমান্তরাল’ সিনেমার নায়ক সুমন একজন হিজড়া। পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে তাকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে হয়েছিল। মৃত্যুর আগে সে বলেছিল, ‘আমার মনটা একটা খোলা ময়দানের মতো। প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে দেয়ালের ওধারে খোলা আকাশ দেখার। আমার মতো মানুষও চোখে মুখে হাসি নিয়ে বাঁচতে চায়, সমাজের ভয় নিয়ে নয়, অত্যাচার ও অপমান নিয়ে নয়। প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে নিজেকে প্রকাশ করার। আমরাও মানুষের সঙ্গে, মানুষের মতো বাঁচতে চাই।”

সমাজের চাপ ও নারীর জীবন

অনার কিলিং সবসময়ই আমাদের সমাজে ছিল এবং আছে। সমাজের ভয়ে মেয়েকে পড়তে, স্বাধীনভাবে বেড়াতে, হাসতে না দেওয়া, জোর গলায় কথা বলতে ও নিজের পছন্দে বিয়ে করতে না দেওয়া, পর্দার নামে আটকে রাখা এসবই নির্যাতন। বিয়ের পর দুঃখ-কষ্ট, নির্যাতন-নিপীড়ন যাই হোক, সেই স্বামীর কাছেই মেয়েকে থাকতে বাধ্য করা এক ধরনের অপরাধ। নির্যাতনের কথা কাউকে বলা যাবে না, ডিভোর্স নেওয়া যাবে না, অত্যাচার সহ্য করেই থাকতে হবে। এভাবে মেয়েটি একদিন নিজের গলায় দড়ি দিতে বাধ্য হয়, অথবা স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকের হাতে নিহত হয়। শুধু পরিবারের সম্মানের কথা ভেবেই এরকম একটা জীবনকে তার মেনে নিতে হয়।

বহু শিশু, মেয়ে, এমনকি ছেলেও পরিবারের ভেতরে প্রিয় ও পরিচিতজনদের দ্বারা যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়ে বা ছেলেটির মুখ চাপা দিয়ে রাখা হয়, পরিবারের বা নির্যাতনকারী ওই ব্যক্তির সম্মানের কথা ভেবে। এই ভয়াবহ অন্যায় সহ্য করা এবং একে চাপা দিয়ে রাখার ব্যাপারটা নির্যাতিত শিশু, নারী, মেয়ে বা ছেলের জন্য সাংঘাতিক শাস্তিস্বরূপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা মঞ্জুরের ক্ষেত্রে দেখেছি, পরিবারের সম্মান রক্ষার মাশুল তাকে কীভাবে দিতে হয়েছে। প্রকৌশলী বেকার স্বামী নিয়মিত রুমানাকে তার বাবার বাসাতেই নির্যাতন করতো। নির্যাতনের একপর্যায়ে যখন রুমানার চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে যায় এবং স্বামী তাকে প্রাণে মেরে ফেলার অবস্থায় নিয়ে যায়, তখন ঘটনাটি সামনে আসে। রুমানার বাবাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— কেন এতদিন ওনারা এই অত্যাচার নিয়ে মুখ খোলেননি? পরিবার থেকে বলা হয়েছিল, ‘নিজেদের সম্মানের কথা ভেবে’ এতদিন কোনও কথা বলেননি তারা। মেয়ের জীবনের বিনিময়ে ‘পরিবারের সম্মান’ কেন রক্ষা করতে হলো?

ফতোয়া ও অনার কিলিং

১৯৯৩ সালে ব্যভিচারের অভিযোগে ফতোয়া দিয়ে নুরজাহানকে সবার সামনে পাথর মারা হয়েছিল। সেই রাগে, দুঃখে, অপমানে মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে গিয়ে বিষ পানে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর তখন ফতোয়ার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছিল। এর একমাস পর উচ্চ আদালত এই ফতোয়াদানকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও, ধর্মের নামে ফতোয়া চলছেই। আর পরিবারের সম্মানের কথা ভেবেও নানাভাবে চলছে অনার কিলিং এর মতো অপরাধ।

শাহানা হুদা রঞ্জনা: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক