ভোলার দৌলতখান উপজেলায় যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দিতে না পারায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার (৩০ মে) সকালে অভিযুক্ত স্বামী সজিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত ও গ্রেফতারের পরিচয়
নিহত ফিমা আক্তার (২২) ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের মেয়ে। গ্রেফতার সজিব দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মসু হাওলাদারের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিমার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
নিহতের মায়ের বক্তব্য
নিহতের মা তাছনুর বেগম বলেন, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে সজিবের সঙ্গে ফিমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মোটরসাইকেলের দাবিতে ফিমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা দিতে না পারায় তাকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগের রাতেও ফিমা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিল। তবে ভোররাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে তাকে অসুস্থ বলে জানানো হয়। খবর পেয়ে সকালে সেখানে গিয়ে ঘরের মেঝেতে মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় বাড়িতে শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশি ব্যবস্থা
দৌলতখান থানার ওসি ফখরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে অভিযুক্ত স্বামী সজিবকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



